ছাত্রদল নেত্রী উর্মিকে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৭৭ বার
ছাত্রদল নেত্রী উর্মিকে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নওরীন উর্মিকে তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিচারপতি ফাতিমা নাজিব ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালত বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উর্মিকে পুনরায় পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে উর্মির পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনাকারী আইনজীবী মো. জিয়াউর রহমান জানান, বিচারিক আদালতের এই নির্দেশনায় তাঁরা সন্তুষ্ট। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে নওরীনকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।

জান্নাতুল নওরীন উর্মি ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হন। তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে তার এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে গত কয়েক বছরে তাঁকে নানা হয়রানি ও হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের রোষানলে পড়েন তিনি। সেসময় তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

ঘটনার প্রেক্ষিতে উর্মির বাবা ২০১৮ সালের ১৭ মার্চ বরিশাল কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং ২০২০ সালের ১ মার্চ আবারও হামলার শিকার হন উর্মি। ওই হামলায় গণিত বিভাগের শিক্ষক সুজিত বালা, ছাত্রলীগ কর্মী আলিম সালেহী, আরিফুল ইসলাম, আবদুল্লাহ ফিরোজ, হাফিজ এবং আসাদুজ্জামান আসাদকে অভিযুক্ত করে বরিশালের বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর ২৪৮/২১)। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও বিচার না হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরং উর্মির বিরুদ্ধেই ‘শৃঙ্খলাভঙ্গের’ অভিযোগ এনে তাঁর ছাত্রত্ব বাতিল করে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের পর জান্নাতুল নওরীন উর্মি পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে আবেদন করেন তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে তিনি ওই বছরের ডিসেম্বরে আইনি নোটিশ পাঠান। এতে প্রশাসন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও, কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বাধ্য হয়েই নওরীন হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশনার মাধ্যমে নওরীনের শিক্ষাজীবনে পুনরায় আলো দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উর্মি বলেন, “আমি পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বারবার বঞ্চিত হয়েছি। এখন আদালতের আশ্রয় নিতে হয়েছে। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।”

এই বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সোনিয়া খান সনি বলেন, “আমরা এখনো হাইকোর্টের নির্দেশনার কোনো লিখিত কপি পাইনি। কপি হাতে পাওয়ার পর আমরা নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

এই ঘটনাটি শুধু একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ছাত্ররাজনীতির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে। হাইকোর্টের এই নির্দেশ সেই প্রশ্নের একটি সদুত্তর হয়ে উঠবে কি না—এমনটাই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com