প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ক্রিকেট বিশ্বকাপের উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যখন পাকিস্তান ভারতকে বয়কটের নাটক শেষ করে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দেশের সরকার সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্টে জানায়, ‘অর্জিত ফলাফল এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধের প্রেক্ষিতে’ পাকিস্তান দলকে ভারতের বিপক্ষে খেলতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এভাবে ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ভারত-পাক ম্যাচ।
পাকিস্তানের আগের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, তারা ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। এই সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং অন্যান্য দেশের চাপের মুখে পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। আইসিসি’র সঙ্গে বৈঠকের পর স্পষ্ট হয়ে যায় যে, পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে খেলবে।
ভারতের সাবেক ক্রিকেট কোচ এবং বিরাট কোহলির শৈশবের প্রশিক্ষক রাজকুমার শর্মা এ ঘটনা ‘নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি এএনআইকে বলেছেন, “পাকিস্তান সবসময় এমন নাটক করে। তারা কখনও কখনও বাংলাদেশের সমর্থন দেয়, তারপর নিজেদের স্বার্থে একপাশে সরিয়ে রাখে। ভারতের বিপক্ষে না খেললে তাদের যে ক্ষতি হতে পারে, তা বোঝার পর তারা মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা পাকিস্তানের কাছে প্রত্যাশিত। এটি তাদের কৌশল এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মিশ্রণ।”
বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেট জগতের মধ্যে নানা বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং সরকারের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বার্থ এবং টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গতা বজায় রাখতে পাকিস্তানের জন্য ভারত-পাক ম্যাচে অংশ নেওয়া অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের এই ‘বয়কট নাটক’ মূলত টুর্নামেন্টের ফলাফল ও আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। দেশটির সরকার বুঝতে পেরেছে, বিশ্বকাপ থেকে ভারতকে এড়িয়ে যাওয়ার ফলে তাদের দল ও দেশের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই শেষ মুহূর্তে তাদের পলিসি পরিবর্তন করা হয়েছে।
ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত আশার বার্তা। ভারত-পাক ম্যাচ কেবল দুই দেশের মধ্যকার প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দর্শকদের জন্য একটি উত্তেজনাপূর্ণ খেলা। উভয় দেশের খেলোয়াড়রা শ্রীলঙ্কার মাঠে একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। পাকিস্তান দল এবং ভারতীয় দল উভয়ই পূর্ণ শক্তি ও কৌশল নিয়ে খেলায় নামবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ম্যাচের আগে উভয় দলের প্রস্তুতি তদারকি করছে। পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন দলের মানসিক প্রস্তুতি এবং স্ট্র্যাটেজি চূড়ান্ত করছেন। ভারতীয় দলও মাঠে নামার আগে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে বলপ্রয়োগ, ব্যাটিং ও ফিল্ডিং অনুশীলনে মনোযোগ দিচ্ছে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক। এটি টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা ও আগ্রহ আরও বাড়াবে। বিশ্লেষকরা আরও জানান, পাকিস্তানের নাটকীয় বয়কটের অবসান টুর্নামেন্টের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখযোগ্য হলো, ভারত-পাক ম্যাচকে ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং নাটকীয় ম্যাচ হিসেবে ধরা হয়। উভয় দলের খেলোয়াড়রা মাঠে নামার আগে ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজেরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পাশাপাশি দেশের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্বও অনুভব করছেন। এটি শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, বরং দুই দেশের সমর্থকদের জন্যও একটি উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা দেবে।
এই নাটকের পর পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড এবং সরকার আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাছে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা ক্রিকেট খেলার নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে ভারত-পাক ম্যাচে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে আনন্দ ও প্রত্যাশা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাঠক এবং সমর্থকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাট। শ্রীলঙ্কার মাঠে দুই দলের খেলোয়াড় এবং সমর্থকেরা মিলিত হয়ে একটি স্মরণীয় খেলার সাক্ষী হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ম্যাচটি কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কূটনীতির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
সবশেষে বলা যায়, পাকিস্তানের ‘নাটক’ এবং এর অবসান ক্রিকেট বিশ্বকে একটি শিক্ষা দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক খেলায় রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক প্রভাব কখনো কখনো খেলার ফলাফলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় বিশ্বকাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও রঙিন এবং উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।