প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধের কারণে ক্যারিবিয়ান দেশ কিউবায় তীব্র জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত করা হচ্ছে, ফলে দিনে কয়েক ঘন্টা দেশের বিভিন্ন অংশে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং যানচলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়েছে। তেলের ঘাটতির কারণে রান্না এবং গৃহস্থালি কাজের জন্য সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে কাঠ ও কয়লা ব্যবহার করছে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপে বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে।
সংকটের কারণে কিউবার সরকার বিভিন্ন জরুরি বিধিনিষেধ জারি করেছে। দেশের সব অফিস ও স্কুলের কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন ক্লাস চালু রাখা হয়েছে। প্রদেশগুলোর মধ্যে পরিবহন সীমিত করা হয়েছে এবং দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলোও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য, খাদ্য উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি, সৌরশক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং সামাজিক কার্যক্রমও এই সংকটের প্রভাবে সীমিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কিউবার বর্তমান সংকটের মূল কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, যা দেশটিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং তেলের সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। কিউবার তেল সরবরাহের জন্য মূলত নির্ভরশীল দেশগুলো হল মেক্সিকো, রাশিয়া এবং ভেনেজুয়েলা। তবে সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ফলে কিউবার তেলের আয়াত বন্ধ হয়ে যায়, যা সংকটকে আরও গুরুতর করেছে।
উল্লেখ্য, কিউবার জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু দৈনন্দিন জীবনে সীমাবদ্ধ নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, খাদ্য উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করছে। জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারের জোরালো পদক্ষেপ সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ নানা ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছে। যাত্রী চলাচল সীমিত হওয়ার কারণে নগরীজুড়ে যানজট কমেছে, তবে একই সঙ্গে জরুরি পরিষেবাগুলোও প্রভাবিত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রশাসনের নীতি মূলত কিউবার ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে তেলের এই সংকট কতদিন ধরে কিউবার জনগণ সহ্য করতে পারবে, তা অনিশ্চিত। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থা দুর্বল এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি, তাই পরিস্থিতি ক্রমশ গুরুতর আকার নিচ্ছে।
বিগত কয়েক দশকের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্নতা কিউবার অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে। তেলের এই সংকট দেশের জনজীবনকে সংকুচিত করছে এবং মানুষকে জীবিকার জন্য অতিরিক্ত কষ্ট পেতে হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদন, যানবাহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে তেলের ঘাটতি দেশের কার্যক্রমে বড় প্রভাব ফেলছে।
প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল এবং সরকার এই সংকটের মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপের পরও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব কমে না। ফলে রান্না, শিক্ষার কার্যক্রম এবং যানচলাচল সীমিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধের প্রভাব কিউবার ওপর শুধু আর্থিক নয়, এটি সামাজিক ও মানবিক সংকটের কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ ও তেলের অভাবে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। সরকারের জরুরি ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ বন্টন এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার শুধুমাত্র আংশিক সমাধান দিতে পারে।
অতএব, কিউবায় তেল ঘাটতির কারণে সৃষ্টি হওয়া এই সংকট এখন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবিক সংস্থা একদিকে দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, অন্যদিকে কিউবার সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।