প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালান রোধের উদ্দেশ্যে মার্কিন দক্ষিণ কমান্ডের নেতৃত্বে এক সামরিক অভিযানে দুইজন নিহত হয়েছেন। সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই শাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ কমান্ড জানিয়েছে, হামলায় একজন ব্যক্তি বেঁচে গেছেন, যাকে উদ্ধার করতে কোস্ট গার্ডের সাহায্যে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। হামলার বিষয়টি প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মাধ্যমে।
মার্কিন দক্ষিণ কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, এই অভিযানে নিহত দুজনকে ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ হামলা প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালান দমন অভিযানকেন্দ্রিক সামরিক কার্যক্রমের অংশ। দক্ষিণ কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের এই হামলাসহ এই অভিযানে মোট ৩৮টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩০ জন নিহত হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছেন, সমুদ্রপথে মাদক পাচার রোধে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালান মূলত দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আনা হচ্ছে। এই চোরাচালানকে আটকাতে মার্কিন বাহিনী নিয়মিত নৌ অভিযান চালাচ্ছে। মার্কিন দক্ষিণ কমান্ডের জন্য এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধমূলক অভিযান। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের অভিযান প্রায়শই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হয়, কারণ মাদক চোরারা দ্রুত নৌযান ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে।
হামলার সময়ে বেঁচে থাকা এক ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য কোস্ট গার্ড সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। উদ্ধারকাজ চলাকালীন জাহাজ ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী মাদক চোরাচালান রোধে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে। এছাড়া অভিযানের লক্ষ্য শুধুমাত্র মাদক পাচারকারীদের দমন করা নয়, বরং এই অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নৌপথে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মার্কিন দক্ষিণ কমান্ডের সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, মাদক পাচার দমনে তারা নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সামরিক কর্মকর্তা আরও বলেন, “এই ধরনের অভিযান আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মাদক চোরাচালানকারী গোষ্ঠীর কার্যক্রম সীমিত করে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষা করে।”
প্রশান্ত মহাসাগরে সামরিক এই অভিযানটি আন্তর্জাতিকভাবে নজর কাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত সংগঠিত এবং সমুদ্রপথ ব্যবহার করে দমনের প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদী। এ ধরনের অভিযান নৌ নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে।
নিহতদের পরিচয় বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে দক্ষিণ কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহতরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এই হামলার সময় তারা নৌযানে অবস্থান করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে মাদক পাচারের চক্র ভাঙা সম্ভব, যা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দেশগুলোর জন্য নিরাপত্তা বাড়াতে সাহায্য করবে।
প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালান রোধে মার্কিন অভিযানগুলো কয়েক দশক ধরে চলমান। সামরিক ও নৌ নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সমুদ্রপথ ব্যবহার করে মাদক পাচার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই মার্কিন দক্ষিণ কমান্ডের এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে, যে তারা মাদক চোরাচালান রোধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে এই ধরনের অভিযান চালিয়ে মার্কিন বাহিনী আন্তর্জাতিক জলপথে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে চাচ্ছে।
সংক্ষেপে, প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন দক্ষিণ কমান্ডের হামলায় দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব বহন করছে। মাদক চোরাচালান দমন ও আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী সমুদ্রপথে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করছে। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় জীবিত ব্যক্তির নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিযান প্রমাণ করছে, সমুদ্রপথের মাদক পাচার প্রতিরোধে মার্কিন সামরিক বাহিনী কোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় পিছপা হচ্ছে না।