সর্বশেষ :
আজ সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষি-উড়োজাহাজ চুক্তি স্বাক্ষর শিশুদের আসক্তি তৈরির অভিযোগে মেটা-ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার এক বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ঢাকা–১১ আসনে পোস্টার নয়, মানুষের মন জয়ের লড়াই বগুড়ায় বিএনপির ‘দুর্গে’ চ্যালেঞ্জ, তিন আসনে জামায়াতের কড়া লড়াই ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ১২ হাজার ৩৮৫ এপস্টিনের কোটি কোটি ডলারের সম্পদের উত্তরাধিকারী কারা রাজধানীর আসনে নারী প্রার্থীদের ইশতেহারে নাগরিক সংকটের অঙ্গীকার

যুক্তরাষ্ট্রে মহাসড়কে জরুরি অবতরণে বিমান ধাক্কা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
যুক্তরাষ্ট্রে মহাসড়কে জরুরি অবতরণে বিমান ধাক্কা

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় একটি ব্যস্ত মহাসড়কে জরুরি অবতরণের সময় এক ছোট প্রশিক্ষণ বিমান একাধিক যানবাহনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে ঘটনার পর তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিমানটি মহাসড়কের উপর অবতরণ করতে গিয়ে একাধিক গাড়ির সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়েছে।

পুলিশ জানায়, এই ঘটনা ঘটে যখন হকার বিচক্রাফট বিই-৩৬ মডেলের একক ইঞ্জিনের বিমানটি গেইনসভিলের লি গিলমার মেমোরিয়াল বিমানবন্দর থেকে ক্যান্টনের চেরোকি কাউন্টি আঞ্চলিক বিমানবন্দরে যাচ্ছিল। বিমানের পাইলট স্থানীয় সময় ১২টা ১০ মিনিটে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন, কারণ বিমান ছাড়ার পর কিছুক্ষণেই ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়।

ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, পাইলটের কাছে বিমানবন্দরে ফিরে যাওয়ার পর্যাপ্ত শক্তি ছিল না। তাই তিনি ব্যস্ত মহাসড়কে যান্ত্রিকভাবে বিমান অবতরণ করান। অবতরণের সময় বিমানটি তিনটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। যদিও কেউ গুরুতরভাবে আহত হননি।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিমান মহাসড়কের উপর অবতরণের পরে গাড়ির সঙ্গে সংযোগ ঘটাচ্ছে এবং তার ডান ডানার সঙ্গে একটি গাড়ি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এছাড়া বিমানের জ্বালানি ট্যাঙ্ক আলগা হয়ে পড়ে, যা আশেপাশের যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে। পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত রাস্তা বন্ধ করা হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘ যানজটের জন্য সতর্ক করা হয়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ধরনের জরুরি অবতরণ খুবই সীমিত বিকল্পের মধ্যে করা হয়েছে। পাইলটের পেশাদারিত্ব এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কারণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিমানের পাইলট জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে যাত্রা অব্যাহত রাখা বিপজ্জনক হতো। তিনি অবিলম্বে মহাসড়কে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন, যা ছিল একমাত্র নিরাপদ বিকল্প।

এনটিএসবি জানিয়েছে, তারা এই দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের মূল লক্ষ্য হবে কীভাবে বিমানটি এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছলো, পাইলটের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা, এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধের জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব। এছাড়া বিমান ও গাড়ির ক্ষতির পরিমাণ ও কারণ নির্ণয়ও তদন্তের অংশ।

এই দুর্ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা ব্যাপকভাবে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে পাইলটের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রফেশনাল আচরণ প্রাণহানি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গাড়ির মালিকরা যদিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তবে কেউ গুরুতরভাবে আহত না হওয়ায় এটি উল্লেখযোগ্য যে মানবিক ক্ষতি সীমিত হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মহাসড়কটি দুর্ঘটনার পর কয়েক ঘন্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল। যাতায়াতকারী যানবাহন অন্য রুট ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানিয়েছেন, এমন ধরণের জরুরি অবতরণ সচরাচর দেখা যায় না, তাই এটি আশেপাশের জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। তবে কেউ গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত না হওয়ায় মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন।

অপর দিকে, বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একক ইঞ্জিনের প্রশিক্ষণ বিমান ছোট হওয়ায় এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি বেশি থাকে। ইঞ্জিনে যেকোনো সমস্যা গুরুতর বিপদ তৈরি করতে পারে। পাইলটের প্রশিক্ষণ, সতর্কতা এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা এই দুর্ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা আশাপ্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

স্থানীয় মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবতরণের পরে বিমান ও গাড়িগুলো স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন মালিকরা এখন তাদের বীমা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটাতে রাস্তার নিরাপত্তা এবং বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হবে।

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও তীব্র। অনেকেই পাইলটের সাহস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশংসা করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এটি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করেছে যে বিমানযাত্রায় ঝুঁকি সবসময় থাকে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পাইলটের প্রশিক্ষণ ও সতর্কতা জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, এই ঘটনায় কোনও বড় ধরনের প্রাণহানি হয়নি, কিন্তু এটি একবারের জন্যও আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ছোট প্রশিক্ষণ বিমানও ব্যস্ত শহর এলাকায় অবতরণের সময় কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই ধরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে ধরা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত