শেষ মুহূর্তে মুক্তি পেল কাইয়ুম-কায়কোবাদ-রফিকুল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৩ বার
শেষ মুহূর্তে মুক্তি পেল কাইয়ুম-কায়কোবাদ-রফিকুল

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা-১১, কুমিল্লা-৩ ও বগুড়া-১ আসনে বিএনপির তিন প্রার্থীর নির্বাচনী পথ এখন আর বাধাপ্রাপ্ত নয়। ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে এই তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল নিয়ে করা লিভ টু আপিল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলো।

ঢাকা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমকে নিয়ে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ ওঠে। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গত ২ ফেব্রুয়ারি রিট করেন, যাতে কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি ভানুয়াতো নামের দেশের নাগরিক এবং বিষয়টি গোপন করেছেন। ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রিটটি সরাসরি খারিজ করেন। এর পর ৫ ফেব্রুয়ারি নাহিদ লিভ টু আপিল করেন, তবে আপিলের শুনানির তারিখ নির্বাচনের পরে নির্ধারণ করা হয়েছে।

কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের মনোনয়নও বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেল দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে ইসিতে আপিল করেন। নির্বাচন কমিশন আবেদনটি খারিজ করলে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট রিট খারিজ করার পর ইউসুফ সোহেল লিভ টু আপিল করেন, যা আজ আদালত খারিজ করেছেন। ফলে কায়কোবাদের নির্বাচনী পথ মসৃণ হয়ে গেছে।

বগুড়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়নও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে ঋণখেলাপির অভিযোগে একই আসনের বিএনপির প্রার্থীরা ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন। তবে তারা পরবর্তীতে আপিল প্রত্যাহার করেন। এরপর জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাহাবুদ্দিন হাইকোর্টে রিট করেন, যা খারিজ করা হয়। লিভ টু আপিলও নির্বাচন পর শুনানির জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুসারে নির্বাচনের সময় যে কোনও মনোনয়নবিরোধী মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ধরনের শেষ মুহূর্তের আপিল এবং আদালতের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোটারদের আগ্রহের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। নির্বাচনী কমিশন এবং আদালত সবসময় চেষ্টা করে থাকেন যাতে নির্বাচনী কার্যক্রমে স্থবিরতা না আসে, এবং ভোটাররা স্বাভাবিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তিন প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিএনপির নির্বাচনী কৌশল ও জনমতের প্রভাবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঢাকা-১১, কুমিল্লা-৩ ও বগুড়া-১ আসনগুলো ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ভোটারদের সমর্থন নির্ধারণে এই প্রার্থীরা মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবেন।

বৈধতার বাধা শেষ হওয়ায় বিএনপি কর্মী ও সমর্থকরা স্বস্তি পেয়েছেন। তাদের মতে, শেষ মুহূর্তে আইনি জটিলতার কারণে ভোটারদের অধিকার ও প্রার্থীর অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত, তবে আদালতের সিদ্ধান্তে তা এড়ানো গেছে। একইসাথে, প্রার্থীরা এবার পুরো মনোযোগ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারবেন।

নির্বাচনের দিকে তাকালে, ঢাকা-১১, কুমিল্লা-৩ ও বগুড়া-১ আসনে ভোটাররা রাজনৈতিক কর্মসূচি, প্রার্থী সমর্থন, জনমতের প্রতিফলন এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানকে কেন্দ্র করে ভোট দেবেন। তবে, শেষ মুহূর্তের এই আইনি জটিলতা নির্বাচনী প্রচারণার গতিশীলতাকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করেছে।

আইনজীবী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, এমন ধরনের লিভ টু আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং প্রার্থীর মনোবল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের কার্যক্রম দেখায় যে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং বিচারব্যবস্থা নির্বাচনী অধিকার ও আইনানুগ প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

এই তিন প্রার্থীর নির্বাচনী পথ অবরুদ্ধ না হওয়ায় ভোটপ্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, জনসভা, প্রচারাভিযান এবং নির্বাচনী কৌশল বাস্তবায়ন সহজ হবে। এটি ভোটারদের কাছে প্রার্থীর অবস্থান ও রাজনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে।

সামগ্রিকভাবে, এই শেষ মুহূর্তের আইনি সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকবে। ভোটাররা এখন স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারছেন এবং প্রার্থীরা জনমত সংগ্রহের কাজ আরও শক্তভাবে চালাতে পারছেন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত