সর্বশেষ :
আজ সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষি-উড়োজাহাজ চুক্তি স্বাক্ষর শিশুদের আসক্তি তৈরির অভিযোগে মেটা-ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার এক বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ঢাকা–১১ আসনে পোস্টার নয়, মানুষের মন জয়ের লড়াই বগুড়ায় বিএনপির ‘দুর্গে’ চ্যালেঞ্জ, তিন আসনে জামায়াতের কড়া লড়াই ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ১২ হাজার ৩৮৫ এপস্টিনের কোটি কোটি ডলারের সম্পদের উত্তরাধিকারী কারা রাজধানীর আসনে নারী প্রার্থীদের ইশতেহারে নাগরিক সংকটের অঙ্গীকার

ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ৫৫ শতাংশ ভোটার: জরিপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ বার
ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ৫৫ শতাংশ ভোটার: জরিপ

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিন ঘিরে পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের অর্ধেকের বেশি ভোটার। একটি প্রাক-নির্বাচনী জনধারণা জরিপে দেখা গেছে, ৫৫ শতাংশ ভোটার আশঙ্কা করছেন—ভোটের দিনে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে এসব শঙ্কার মধ্যেও আশাব্যঞ্জক দিক হলো, সিংহভাগ ভোটার শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) এবং তাদের যুব প্ল্যাটফর্ম ইয়ুথ ফর পলিসি (ওয়াইএফপি) যৌথভাবে ‘কতটা জেনে-বুঝে নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ?’ শীর্ষক এই জরিপটি পরিচালনা করে। সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন আইআইডির নির্বাহী প্রধান সাঈদ আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ ফর পলিসির প্রধান সানজিদা রহমান এবং আইআইডির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম পরিচালক মারিয়াম তাসনিম।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন ভোটের দিন কোনো ধরনের সহিংসতা বা নিরাপত্তাজনিত সংকট দেখা দিলে তা ভোটার উপস্থিতিকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। এই উদ্বেগের পেছনে রয়েছে দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার অভিজ্ঞতা, অতীতের নির্বাচনী সহিংসতা এবং মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা। অনেক ভোটার আশঙ্কা করছেন, সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় পেতে পারেন।

নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও জরিপে স্পষ্ট দ্বিধার চিত্র উঠে এসেছে। মাত্র ৫১ শতাংশ ভোটার মনে করেন, নির্বাচনের পর পরাজিত পক্ষ সহজে ফলাফল মেনে নেবে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক ভোটারই আশঙ্কা করছেন, ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন বা অস্বীকৃতির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গবেষকরা বলছেন, এই অনাস্থা দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে উদ্বেগের এই চিত্রের মাঝেও আশাবাদের জায়গা তৈরি করেছে কিছু ইতিবাচক তথ্য। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা শেষ পর্যন্ত নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন। পাশাপাশি ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটারের ধারণা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এবার কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন। এই তথ্যগুলো ইঙ্গিত দেয়, ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা থাকলেও ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহ এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও জরিপে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ৪৮ শতাংশ ভোটার মনে করেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ আচরণ করছে। তবে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, উল্লেখযোগ্য অংশের ভোটার—৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ—এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই অনিশ্চয়তা ভোটার আস্থার সংকটকে আরও গভীর করে তুলতে পারে।

জরিপে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ‘জুলাই সনদ’ সম্পর্কে ভোটারদের জানাশোনার সীমাবদ্ধতা। নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আলোচিত এই সনদ সম্পর্কে জাতীয়ভাবে মাত্র ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার অবগত। বিশেষ করে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটারদের মধ্যে এই জানাশোনার হার নেমে এসেছে ২৩ দশমিক ২ শতাংশে। আরও উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন ভোটারদের মধ্যে, যেখানে মাত্র ৮ দশমিক ৪ শতাংশ এই সনদ সম্পর্কে জানেন। গবেষকদের মতে, এত বড় একটি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণের এই সীমিত জ্ঞান ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভোটের ফলাফল সংক্রান্ত ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থ ও পরিণতি নিয়েও ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, জাতীয়ভাবে প্রায় ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার জানেন না ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে বয়স্ক ও গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে এই তথ্য ঘাটতি আরও প্রকট। এই বাস্তবতা ভোটার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

আইআইডি ও ওয়াইএফপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি মাসের ৬ ও ৭ তারিখে দেশের আটটি বিভাগের ৪০টি জেলার মোট ৯ হাজার ৮৯২ জন ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। শহর ও গ্রাম, নারী ও পুরুষ, বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, এই জরিপ সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ গবেষণা উদ্যোগ। এর উদ্দেশ্য কোনো পক্ষকে সমর্থন বা বিরোধিতা করা নয়, বরং নির্বাচনের আগে ভোটারদের মানসিক অবস্থা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা। তাদের মতে, এই তথ্যগুলো নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, জরিপের ফলাফল স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে যে ভোটাররা একদিকে নিরাপত্তা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শঙ্কিত, অন্যদিকে ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী। এই দ্বৈত বাস্তবতা সামাল দিতে হলে নির্বাচন পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল ভূমিকা নিতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করা গেলে ভোটারদের এই উদ্বেগ অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত