সর্বশেষ :
আজ সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষি-উড়োজাহাজ চুক্তি স্বাক্ষর শিশুদের আসক্তি তৈরির অভিযোগে মেটা-ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার এক বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ঢাকা–১১ আসনে পোস্টার নয়, মানুষের মন জয়ের লড়াই বগুড়ায় বিএনপির ‘দুর্গে’ চ্যালেঞ্জ, তিন আসনে জামায়াতের কড়া লড়াই ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ১২ হাজার ৩৮৫ এপস্টিনের কোটি কোটি ডলারের সম্পদের উত্তরাধিকারী কারা রাজধানীর আসনে নারী প্রার্থীদের ইশতেহারে নাগরিক সংকটের অঙ্গীকার

বগুড়ায় বিএনপির ‘দুর্গে’ চ্যালেঞ্জ, তিন আসনে জামায়াতের কড়া লড়াই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
বগুড়ায় বিএনপির ‘দুর্গে’ চ্যালেঞ্জ, তিন আসনে জামায়াতের কড়া লড়াই

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা বগুড়ায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি বা ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই জেলায় এবার দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বগুড়ার অন্তত তিনটি সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে বিএনপি। প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম ও রাজনৈতিক উত্থানের জেলা হওয়ায় বগুড়াকে ঐতিহাসিকভাবেই বিএনপির ভোটব্যাংক হিসেবে ধরা হয়। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, বগুড়া কোনো দলের একক ‘দুর্গ’ নয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। এর মধ্যে বগুড়া–২ (শিবগঞ্জ), বগুড়া–৩ (দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি) এবং বগুড়া–৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) আসনগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে এসব আসনে ভোটের সমীকরণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া–২ আসনটি রাজনৈতিক ইতিহাসে বরাবরই আলোচিত। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৭ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৫৩ জন। ভোট গ্রহণ হবে ১১৪টি কেন্দ্রে। ১৯৯১ সালে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন বিএনপির দখলে থাকলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি এখানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ছাড় দেয়। সে নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন।

এবার বগুড়া–২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ বহুমাত্রিক। বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম ধানের শীষ প্রতীকে, জামায়াতের আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না কেটলি প্রতীকে মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। তবে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল লড়াই ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

প্রচারণার মাঠেও এই দুই দলের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। শিবগঞ্জের মোকামতলা বন্দরে বিএনপির এক পথসভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষে ভোট দিয়ে মীর শাহে আলমকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। একই এলাকায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান দাঁড়িপাল্লায় ভোট চেয়ে আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামানের পক্ষে সমর্থন চান। এই পাল্টাপাল্টি শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি ভোটের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না অভিযোগ করেছেন, তাঁর প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কর্মী–সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তিনি বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার কারণে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন পাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম দৃঢ় কণ্ঠে দাবি করেছেন, শিবগঞ্জের মানুষ আবারও ধানের শীষের পক্ষেই রায় দেবে। জামায়াতের প্রার্থী শাহাদুজ্জামান বলছেন, অতীতের মতো এবারও এই আসনে জামায়াতের পুনরুত্থান ঘটবে।

দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া–৩ আসনটিও এবার উত্তপ্ত। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৩ জন। পুরুষ ও নারী ভোটার প্রায় সমান সংখ্যক। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১৮টি। ১৯৯১ সাল থেকে এখানে অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চারটি নির্বাচনে বিএনপি জয় পেয়েছে। এবারও বিএনপির প্রার্থী আবদুল মহিত তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে মাঠে থাকলেও জামায়াতের নূর মোহাম্মদ আবু তাহের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

এ এলাকার ভোটারদের মতামত বিভক্ত। কেউ বলছেন, পারিবারিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে। আবার অনেকে মনে করছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জামায়াতের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। বিএনপি ও জামায়াত—উভয় পক্ষই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া–৪ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫২৩। এখানে নারী ভোটার সামান্য বেশি। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই আসন বিএনপির দখলে ছিল। ২০১৮ সালে বিএনপির মোশারফ হোসেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবারও তিনি ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাঠে নেমেছেন।

বিএনপির সমর্থকদের দাবি, মোশারফ হোসেন একজন পরিচ্ছন্ন ও জনপ্রিয় নেতা। অন্যদিকে জামায়াতের কর্মী–সমর্থকেরা বলছেন, কাহালু ও নন্দীগ্রামের মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনে জামায়াতের ভালো ফল তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে বগুড়ার এই তিনটি আসনে ভোটের মাঠে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে বিএনপি এবার সহজ জয় পাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তি, মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এই লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন প্রতীকে আস্থা রাখেন, সেটিই নির্ধারণ করবে বগুড়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত