সর্বশেষ :
আজ সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষি-উড়োজাহাজ চুক্তি স্বাক্ষর শিশুদের আসক্তি তৈরির অভিযোগে মেটা-ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার এক বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ঢাকা–১১ আসনে পোস্টার নয়, মানুষের মন জয়ের লড়াই বগুড়ায় বিএনপির ‘দুর্গে’ চ্যালেঞ্জ, তিন আসনে জামায়াতের কড়া লড়াই ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ১২ হাজার ৩৮৫ এপস্টিনের কোটি কোটি ডলারের সম্পদের উত্তরাধিকারী কারা রাজধানীর আসনে নারী প্রার্থীদের ইশতেহারে নাগরিক সংকটের অঙ্গীকার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষি-উড়োজাহাজ চুক্তি স্বাক্ষর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষি-উড়োজাহাজ চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশ:  ১০ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৃষিপণ্য, বেসামরিক উড়োজাহাজ, জ্বালানি এবং সামরিক সরঞ্জাম আমদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হলেও, নতুন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে কমপক্ষে ৭ লাখ মেট্রিক টন গম, ২৬ লাখ মেট্রিক টন সয়াবিন ও সয়াজাত পণ্য এবং তুলা আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে। এসব কৃষিপণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা।

চুক্তির মাধ্যমে শুধুমাত্র কৃষিপণ্যই নয়, বেসামরিক বিমান খাতেও বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ থাকবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির তৈরি ১৪টি নতুন বেসামরিক উড়োজাহাজ কিনবে। চুক্তিতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত উড়োজাহাজ ক্রয়ের বিকল্পও রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ ও সংশ্লিষ্ট সেবার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ধরনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সহায়ক হবে।

জ্বালানি খাতেও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানের উদ্যোগ নেবে। ১৫ বছরের মধ্যে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জ্বালানি আমদানের প্রতিশ্রুতি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি দেশে জ্বালানির স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

চুক্তিতে প্রতিরক্ষা খাতেও উল্লেখযোগ্য বিষয় যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালাবে এবং একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জামের আমদানির পরিমাণ সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এটি দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলবে। কৃষি খাতে আমদানিকৃত পণ্যের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ হবে। বেসামরিক উড়োজাহাজের মাধ্যমে বিমান পরিবহন খাতকে আরও আধুনিক করা সম্ভব হবে এবং জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি দেশে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে। প্রতিরক্ষা খাতে সরঞ্জাম ক্রয়ের মাধ্যমে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের জন্য এটি এক ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, কৃষি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, এবং দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি তা নিশ্চিত করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেসামরিক বিমান ও জ্বালানি খাতে যে বিনিয়োগ হবে, তা দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও নজর দেওয়া হয়েছে। বিশেষত কৃষি ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া, দেশের প্রযুক্তি খাতও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে উন্নয়নের নতুন ধাপের দিকে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের কৃষি, বেসামরিক বিমান, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সহায়ক হবে।

চুক্তির ফলে কৃষি পণ্যের জন্য বাজার সম্প্রসারণ হবে, যা কৃষকদের আয়ের উন্নতি করবে এবং দেশীয় উৎপাদন ও রপ্তানি সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে। বেসামরিক উড়োজাহাজের আধুনিকায়ন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কাজ করতে সক্ষম করবে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চুক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং প্রতিরক্ষা খাতের উন্নয়ন দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধি করবে।

মোটকথা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার পথ উন্মুক্ত করেছে। এটি শুধু দেশের অর্থনৈতিক ঘাটতি কমাবে না, বরং কৃষি, বিমান পরিবহন, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতকে আধুনিকীকরণের সুযোগ দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত