ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ ব্রেসওয়েলের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪ বার
ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ ব্রেসওয়েলের

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সূচনা করেছে নিউজিল্যান্ড। টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে আফগানিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে কিউইরা। কিন্তু মাঠের সাফল্যের মাঝেই বড় ধাক্কা খেল দলটি। ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাইকেল ব্রেসওয়েল। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তার পরিবর্তে দলে যুক্ত হয়েছেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার কোল ম্যাকননি।

বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকলেও এবারও মাঠে নামা হলো না ব্রেসওয়েলের। গত মাসে ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ফিল্ডিংয়ের সময় পায়ের পেশিতে চোট পান তিনি। ওই ম্যাচে ব্যাট হাতে অপরাজিত ২৮ রান করে দলের সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও দ্বিতীয় ইনিংসে আর মাঠে নামতে পারেননি। এরপর ভারত সফরের পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও অনুপস্থিত ছিলেন এই অলরাউন্ডার। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, পায়ের পেশির টান থেকে সেরে উঠতে খুব বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায় ভিন্ন।

চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেও খেলতে পারেননি ব্রেসওয়েল। দলীয় সূত্র জানায়, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই ছিলেন তিনি। কিন্তু গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুশীলনের সময় আবারও পেশিতে চোট পান। মেডিকেল রিপোর্টে পেশির জটিলতা ধরা পড়ায় টিম ম্যানেজমেন্ট ও চিকিৎসক দল ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার কথা বিবেচনা করেই তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ব্রেসওয়েলের জন্য এটি নতুন কোনো দুর্ভাগ্য নয়। ইনজুরির কারণে ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপেও খেলতে পারেননি তিনি। সে সময় ডান পায়ের অ্যাকিলিসে গুরুতর চোট পান, যা সারাতে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করাতে হয়েছিল। প্রায় এক বছর পুনর্বাসনের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেও এবার আবারও চোটের ছোবলে থমকে গেল তার অগ্রযাত্রা। একের পর এক ইনজুরি তার ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৩৩ বছর বয়সী ব্রেসওয়েল নিউজিল্যান্ড দলে একজন কার্যকর অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত। মিডল অর্ডারে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ স্পিন বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দিতে সক্ষম তিনি। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তার বহুমুখী দক্ষতা দলকে ভারসাম্য এনে দেয়। বিশেষ করে পাওয়ার হিটিং এবং চাপের মুহূর্তে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা তাকে আলাদা করে তোলে। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে তার অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে দলের জন্য বড় ক্ষতি।

তবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বরাবরই গভীর স্কোয়াডের ওপর নির্ভর করে। ব্রেসওয়েলের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন কোল ম্যাকননি। ৩৪ বছর বয়সী এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব বেশি আলোচিত না হলেও অভিজ্ঞতা ও ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেছেন। নিউজিল্যান্ডের হয়ে এখন পর্যন্ত ১২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে সাতটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। এছাড়া ছয়টি ওয়ানডে ম্যাচেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন কিউইদের।

ম্যাকননির অন্তর্ভুক্তি দলকে স্পিন অপশনে বৈচিত্র্য এনে দেবে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অফ স্পিনারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে পাওয়ারপ্লের পর মধ্য ওভারে রান আটকে রাখার ক্ষেত্রে। ব্যাট হাতেও তিনি প্রয়োজনমতো কার্যকর অবদান রাখতে পারেন। টিম ম্যানেজমেন্টের মতে, ম্যাকননির অভিজ্ঞতা এবং ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝে খেলার দক্ষতা বর্তমান স্কোয়াডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা আত্মবিশ্বাসী। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স এবং ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ইনিংসে জয় পায় দলটি। দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষেও ছিল আধিপত্যপূর্ণ জয়। তবে সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন প্রতিপক্ষ। এমন সময়ে একজন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারের অনুপস্থিতি কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও কিউইরা বরাবরই দলগত শক্তি ও শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত।

ব্রেসওয়েলের জন্য এই মুহূর্তটি নিঃসন্দেহে হতাশার। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে চান। কিন্তু মাঠে নামার আগেই বিদায় নিতে হওয়া মানসিকভাবে বড় আঘাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, সুস্থ হয়ে ফিরলে ভবিষ্যতে আবারও জাতীয় দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, ব্রেসওয়েলের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে অবিলম্বে। চিকিৎসক দলের পর্যবেক্ষণে ধীরে ধীরে ফিটনেসে ফেরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য থাকবে দীর্ঘমেয়াদে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখা, যাতে পুনরায় ইনজুরির ঝুঁকি না থাকে।

ক্রিকেটে ইনজুরি নতুন কিছু নয়, কিন্তু বড় টুর্নামেন্টের আগে বা চলাকালীন এমন ধাক্কা দলের পরিকল্পনা বদলে দেয়। নিউজিল্যান্ডের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে স্কোয়াডের ভারসাম্য ধরে রাখা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া। ম্যাকননির জন্য এটি নিজেকে প্রমাণের বড় সুযোগ। বিশ্বকাপের মঞ্চে ভালো পারফরম্যান্স তার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

সব মিলিয়ে, নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা যেমন আত্মবিশ্বাস দিয়ে শুরু হয়েছিল, তেমনি বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা সামনে এনে দিল ব্রেসওয়েলের ইনজুরি। ক্রিকেটের অনিশ্চয়তার মাঝেই নতুন সম্ভাবনার জন্ম হয়। কিউই সমর্থকদের আশা, দলীয় ঐক্য ও দৃঢ় মানসিকতায় এই ধাক্কা কাটিয়ে আরও শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াবে নিউজিল্যান্ড। আর ব্রেসওয়েলের জন্য রইল দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার শুভকামনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত