রোগ প্রতিরোধে উপকারী ৫ প্রাকৃতিক পানীয়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
রোগ প্রতিরোধে উপকারী ৫ প্রাকৃতিক পানীয়

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পরিবর্তিত আবহাওয়া, দূষণ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম শক্ত রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ থাকতে কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রাকৃতিক উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। সাধারণ রান্নাঘরের পরিচিত কিছু মসলা ও উপকরণ দিয়েই তৈরি করা যায় এমন কিছু পানীয়, যা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদ, মেথি, জিরা, লেবু কিংবা জবের মতো উপাদানগুলোতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও বিপাকক্রিয়া উন্নতকারী গুণ। নিয়মিত ও পরিমিতভাবে এসব উপাদান দিয়ে তৈরি পানীয় গ্রহণ করলে শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমানো, হজমশক্তি উন্নত করা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা মিলতে পারে।

হলুদ পানি দীর্ঘদিন ধরেই প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন শরীরের প্রদাহ কমাতে কার্যকর বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক গ্লাস গরম পানিতে এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া ও এক চিমটি কালো মরিচ মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। কালো মরিচে থাকা পাইপারিন কারকিউমিনের শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে। তবে যাদের গ্যাস্ট্রিক বা পিত্তথলির সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

মেথির পানি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হিসেবে পরিচিত। মেথিতে রয়েছে দ্রবণীয় আঁশ, যা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে ভূমিকা রাখতে পারে। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলেন, এক চা চামচ মেথি রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি ছেঁকে খালি পেটে পান করা যেতে পারে। ভেজানো মেথি চিবিয়ে খেলেও উপকার মিলতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হলেও নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারীদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।

লেবুর পানি বহু বছর ধরেই স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ লেবু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করতে সাহায্য করে। এক গ্লাস গরম পানিতে একটি লেবুর রস ও সামান্য মধু মিশিয়ে সকালে পান করলে সারাদিন সতেজ অনুভূত হতে পারে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, লেবুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়ক এবং ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যাদের দাঁতের এনামেল সংবেদনশীল, তাদের জন্য স্ট্র ব্যবহার করে পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জিরার পানি হজমশক্তি উন্নত করতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। জিরায় থাকা বিভিন্ন ভেষজ উপাদান পাকস্থলীর কার্যক্রম সক্রিয় করতে সহায়তা করে। এক চা চামচ জিরা দুই কাপ পানিতে ফুটিয়ে ছেঁকে সকালে খালি পেটে পান করলে হজমে স্বস্তি মিলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত জিরার পানি গ্রহণ করলে অম্বল, গ্যাস ও হালকা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়।

জবের পানি বা বার্লি ওয়াটারও সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জবে রয়েছে বিটা-গ্লুকান নামের এক ধরনের আঁশ, যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। সাধারণভাবে জবের দানা বা ডাঁটা ১৫ মিনিট পানিতে ফুটিয়ে ছেঁকে সকালে পান করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতেও কার্যকর।

তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, প্রাকৃতিক উপাদান উপকারী হলেও তা কখনোই চিকিৎসার বিকল্প নয়। দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা বা গর্ভাবস্থায় এসব পানীয় গ্রহণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে উপকারের বদলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ থাকতে কেবল নির্দিষ্ট কোনো পানীয় নয়, বরং সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। তবুও প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে সহজলভ্য ও কম খরচে তৈরি এসব পানীয় স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে যুক্ত করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, রান্নাঘরের এসব উপাদান আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঘরোয়া চিকিৎসায় এগুলোর ব্যবহার রয়েছে। আধুনিক গবেষণা ধীরে ধীরে তাদের কার্যকারিতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিচ্ছে। ফলে সচেতনভাবে ও সঠিক নিয়মে গ্রহণ করলে এগুলো হতে পারে স্বাস্থ্য রক্ষার সহজ উপায়।

সবশেষে বলা যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক পানীয় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তবে তা হতে হবে সচেতনতা ও পরিমিতির সঙ্গে। নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত