মুন্না ভাই ও থ্রি ইডিয়টস ফিরছে পর্দায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৯ বার
মুন্না ভাই ও থ্রি ইডিয়টস ফিরছে পর্দায়

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউডে বিষয়ভিত্তিক, মানবিক এবং বুদ্ধিদীপ্ত গল্প বলার ক্ষেত্রে যে কজন নির্মাতা আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন, রাজকুমার হিরানি তাদের অন্যতম। তার নির্মিত ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’, ‘লাগে রহো মুন্না ভাই’ এবং ‘থ্রি ইডিয়টস’ শুধু বক্স অফিসেই সাফল্য পায়নি, দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির সিক্যুয়েল নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। অবশেষে ভক্তদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সুখবর দিলেন নির্মাতা নিজেই।

সম্প্রতি ‘ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজকুমার হিরানি নিশ্চিত করেছেন, ‘মুন্না ভাই’ এবং ‘থ্রি ইডিয়টস’—দুই সিনেমারই সিক্যুয়েল তৈরির কাজ এগোচ্ছে। তিনি জানান, গল্পের দিক থেকে বেশ কিছু শক্তিশালী ধারণা তার মাথায় এসেছে এবং বর্তমানে তিনি চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছেন।

হিরানির ভাষায়, ‘মুন্না ভাই ৩’-এর জন্য তার কাছে একটি বড় ও প্রভাবশালী আইডিয়া রয়েছে। তবে গল্পের শেষ পরিণতি কেমন হবে, তা নিয়ে এখনো কাজ চলছে। এর আগে ‘মুন্না ভাই’ সিরিজে আমরা দেখেছি এক গুণ্ডা চরিত্রের মানবিক রূপান্তর, যেখানে হাস্যরসের সঙ্গে সামাজিক বার্তা মিশে যায় অনায়াসে। প্রথম কিস্তিতে চিকিৎসা ব্যবস্থার মানবিক দিক, দ্বিতীয়টিতে গান্ধীবাদ—এই দুই বিষয়কে সহজ ভাষায় দর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন হিরানি। ফলে তৃতীয় কিস্তিতে তিনি কোন সামাজিক বা মানবিক ইস্যুকে তুলে ধরবেন, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।

অন্যদিকে ‘থ্রি ইডিয়টস’ ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার ওপর এক তীব্র কিন্তু হাস্যরসাত্মক সমালোচনা ছিল। র‍্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুর বন্ধুত্ব, স্বপ্ন ও জীবনের দর্শন কোটি দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। হিরানি জানিয়েছেন, ‘থ্রি ইডিয়টস ২’ নিয়ে হঠাৎ করেই তার মাথায় একটি চমৎকার ধারণা আসে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগেই সিনেমাটি নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল, এখন তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ভাবছেন এবং স্ক্রিপ্ট উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।

‘থ্রি ইডিয়টস’ মুক্তির পর থেকে দর্শকরা বারবার জানতে চেয়েছেন—র‍্যাঞ্চো এখন কোথায়? ফারহান কি তার ফটোগ্রাফির স্বপ্ন পূরণ করেছে? রাজু কি পরিবারকে নিয়ে সুখে আছে? সিক্যুয়েলে হয়তো সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলতে পারে। একই সঙ্গে বদলে যাওয়া সময়, প্রযুক্তি ও নতুন প্রজন্মের শিক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জও গল্পে উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে হিরানির হাতে তিন থেকে চারটি আলাদা স্ক্রিপ্ট রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। কোন প্রজেক্টটি আগে শুটিং ফ্লোরে যাবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে নির্মাতার কথায় স্পষ্ট, তিনি তাড়াহুড়া করতে চান না। তার কাছে গল্পের মান এবং দর্শকের প্রত্যাশা পূরণই সবচেয়ে বড় বিষয়।

বলিউডে সিক্যুয়েল নির্মাণ নতুন কিছু নয়, তবে হিরানির ক্ষেত্রে প্রত্যাশার মাত্রা সবসময়ই বেশি। কারণ তার সিনেমা শুধু বিনোদন দেয় না, সমাজের প্রতি এক ধরনের দায়িত্বশীল বার্তাও বহন করে। ‘মুন্না ভাই’ সিরিজে যেমন হাসির আড়ালে মানবিকতা ও সহমর্মিতার পাঠ ছিল, তেমনি ‘থ্রি ইডিয়টস’ তরুণদের নিজেদের স্বপ্ন অনুসরণ করার সাহস জুগিয়েছিল। ফলে নতুন কিস্তিগুলোও যে একইভাবে দর্শকের মন ছুঁতে পারবে—সেই আশাই করছেন ভক্তরা।

সঞ্জয় দত্ত, আরশাদ ওয়ারসি এবং আমির খান—এই তারকাদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়েও চলছে আলোচনা। যদিও কাস্টিং নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি, তবুও দর্শকরা পুরোনো মুখগুলোকেই আবার পর্দায় দেখতে চান। বিশেষ করে মুন্না ও সার্কিটের বন্ধুত্ব কিংবা র‍্যাঞ্চোর ব্যতিক্রমী চিন্তাধারা আবার বড় পর্দায় ফিরলে তা যে ব্যাপক সাড়া ফেলবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা এবং নৈতিক মূল্যবোধের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই দুই সিনেমার সিক্যুয়েল নতুন মাত্রা পেতে পারে। হিরানির গল্প বলার ধরণ এমনই, যেখানে জটিল বিষয়ও সহজ ভাষায় উপস্থাপিত হয় এবং দর্শক হাসতে হাসতেই গভীর বার্তা গ্রহণ করে।

তবে এখনো মুক্তির সম্ভাব্য সময় বা শুটিং শুরুর তারিখ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি। নির্মাতা জানিয়েছেন, স্ক্রিপ্ট পুরোপুরি সন্তোষজনক না হওয়া পর্যন্ত তিনি শুটিং শুরু করবেন না। তার এই ধীরস্থির মনোভাবই হয়তো তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

এই ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ছে। কেউ লিখছেন, “অল ইজ ওয়েল আবার শুনতে চাই”, আবার কেউ বলছেন, “গান্ধীগিরি ফিরিয়ে আনুন।” দীর্ঘ সময় পর প্রিয় চরিত্রগুলোর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন দর্শকদের মধ্যে নতুন করে নস্টালজিয়ার ঢেউ তুলেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, রাজকুমার হিরানির এই ঘোষণা বলিউডপ্রেমীদের জন্য এক বড় সুখবর। এখন শুধু অপেক্ষা—কখন চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে এবং কবে আবার মুন্না ভাই ও র‍্যাঞ্চো বড় পর্দায় ফিরে এসে দর্শকদের হাসাবে, ভাবাবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত