সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, ব্যালট হাতে দিলে কঠিন পরিণতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১ বার
এডিসি জুয়েল রানা

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে ভোট নিরাপত্তা শীর্ষে রাখা হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা সোমবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে তার কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে থাকবে এবং যেকোনো ধরনের নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।

তিনি জানান, ব্যালট ছিনতাই বা কেন্দ্রে সহিংসতা রোধে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার একযোগে দায়িত্ব পালন করবে। সব বাহিনীর হাতে আধুনিক অস্ত্র থাকবে এবং এর উপস্থিতি দেখলেই কোনো দুষ্কৃতিকারী সাহস করবে না। এডিসি জুয়েল রানা বলেন, নির্বাচনী এলাকা এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে দুষ্কৃতিকারী ও বিশৃঙ্খলাকারীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড়ে র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ ফুট পেট্রোল মহড়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এডিসি আরও জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়েছে। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, ভোট কারচুপি বা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচনে জালিয়াতি ও সহিংসতা রোধে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের পোশাকে বডি ক্যামেরা থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার করা হবে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে আইজিপি আরও জানান, ভোটারদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচনী এলাকা তিন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে, এলাকাভিত্তিক টহল টিম দায়িত্ব পালন করবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণকারী বিশেষ দল কাজ করবে। সারাদেশে মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য নির্বাচনের সময় সরাসরি দায়িত্ব পালন করবেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃঢ় প্রস্তুতি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থা বৃদ্ধি করবে। তারা মনে করেন, কঠোর নজরদারি এবং সিসিটিভি ও বডি ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্র যেতে উৎসাহিত করা সম্ভব। এছাড়া নির্বাচনী সহিংসতা রোধে পুলিশ, সেনা ও অন্যান্য বাহিনীর যৌথ টহল কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর হবে।

নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী প্রার্থীদের ও পর্যবেক্ষকসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনকালীন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দুষ্কৃতিকারীদের ভয় দেখানোর কৌশল সফল হলে ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে এবং ভোটাধিকার সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

সার্বিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষ করে ব্যালট বাক্সের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের আস্থা বৃদ্ধি করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া অবস্থান এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত