তারেকের ‘ফ্যামিলি ম্যান’ কৌশল নিয়ে নতুন নির্বাচনী রূপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২২ বার
তারেকের ‘ফ্যামিলি ম্যান’ কৌশল নিয়ে নতুন নির্বাচনী রূপ

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান এবার অন্যরকম কৌশল নিয়ে ভোটারদের সামনে এসেছেন। প্রচারের সময় ১৯ দিনে দেশজুড়ে অন্তত ৬৪টি জনসভা করেছেন তিনি, যেখানে সাধারণ বক্তৃতার বদলে সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন। নিজেকে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ হিসেবে তুলে ধরে শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা দিয়েছেন।

তারেক রহমানের এই কৌশল প্রচলিত একতরফা বক্তৃতার চিত্র ভেঙেছে। তিনি কখনো দর্শকসারি থেকে সাধারণ মানুষকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে কথা বলেছেন, কখনো মঞ্চ থেকে সরাসরি প্রশ্ন করেছেন ও উত্তর দিয়েছেন। এলাকার বাস্তব সমস্যা তুলে ধরে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ তৈরি করার মাধ্যমে তিনি বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন যে, তিনি কেবল নেতার দায়িত্ব পালন করছেন না, মানুষকে শোনার ও বোঝার ক্ষমতাও রাখেন।

সিলেটের প্রথম জনসভায় তারেক রহমান এক ব্যক্তিকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে প্রশ্ন করেন, “বেহেশত-দোজখের মালিক কে?” উত্তর আসে, “আল্লাহ।” এরপর তিনি জনসভায় উপস্থিত মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করেন, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কি অন্য কেউ দিতে পারে? সমস্বরে সাড়া আসে, “না।” এই সংলাপের মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রভাব তৈরি হয়, যাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল ইন্টারঅ্যাকশনের সঙ্গে বেশি অভ্যস্ত।

তারেক রহমানের কৌশলে স্ত্রী চিকিৎসক জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমানও অংশ নেন। নির্বাচনী প্রচারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁরা নারীর অংশগ্রহণ, প্রতিবন্ধীদের সহায়তা এবং সমাজসেবা কার্যক্রমে এগিয়ে এসেছেন। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এই কৌশল ভোটারদের কাছে তারেককে দায়িত্বশীল, স্নেহময় ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ First আলোকে বলেছেন, জনসভায় সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে নেতা এবং জনগণের মধ্যে সমস্যা ও সমাধানের অঙ্গীকার নিশ্চিত হয়। এই কৌশল নির্বাচনী প্রচারণার নতুন রূপ তুলে ধরেছে এবং ভোটারদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়েছে।

প্রচারণায় তারেক রহমান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নারী ও তরুণদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ-র টাউন হল মিটিং-এর মতো কৌশল বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

তরুণ ও নতুন ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে এই কৌশল কার্যকর। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সহায়তায় ভোটাররা সরাসরি সংলাপে যুক্ত হতে পেরেছেন, যা প্রচলিত বক্তৃতার একঘেয়েমি দূর করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা First আলোকে বলেছেন, ‘নির্বাচনী প্রচারে লোকের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় নতুন মাত্রা এনেছে।’

তারেক রহমানের এই কৌশল শুধু ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনই নয়, শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করেছে। দেশে ফেরার পর থেকে তিনি বারবার বলেছেন, শান্তিশৃঙ্খলা ফেরানো তাঁর অগ্রাধিকার। নির্বাচনী জনসভায় ভোটারদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন এবং সহনশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি করবেন।

তবে প্রচারণায় তারেকের কিছু ভুল তথ্যও আলোচিত হয়েছে। কুমিল্লায় তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) করবেন, যেখানে ২০০০ সালে ইতিমধ্যে ইপিজেড হয়েছে। এই ভুল তথ্য সত্ত্বেও নির্বাচনী প্রচারে তার কৌশল ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

নির্বাচনী জনসভায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের ধর্মকেন্দ্রিক বা সমালোচনামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে তারেক রহমান সংলাপের মাধ্যমে শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শুধু সমালোচনা করা জনগণের কোনো উপকার দেয় না। বরং, সকলের কথা শুনে সমস্যার সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্যামিলি ম্যান হিসেবে নির্বাচনী প্রচারে নিজেকে তুলে ধরার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে তিনি পরিবারে দায়িত্বশীল, স্নেহময় পিতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী নেতা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। প্রচারণার শেষ পর্যায়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণে অতীতের ভুলত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার করেছেন।

১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের কাছে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং সরকার পরিচালনার পরিকল্পনা পৌঁছানোর জন্য তারেক রহমানের এই প্রচারকৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা দেখাবে নির্বাচনের গণরায়। তবে এই প্রচারণা নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন রূপ এবং জনসংযোগে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত