প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম পৌঁছে যাচ্ছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি তৎপরতা শুরু হয়েছে। স্বচ্ছ ব্যালট বক্স, অমোচনীয় কালি, দলীয় ভোটের জন্য সাদা ব্যালট পেপার ও গণভোটের জন্য গোলাপি ব্যালট পেপারসহ ভোটার তালিকা কেন্দ্রগুলোতে বিতরণ করা হচ্ছে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা ও প্রিজাইডিং অফিসাররা সরঞ্জামাদি বুঝে নিচ্ছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এগুলো কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছেন।
ঢাকায় দেখা যায়, সকাল থেকে নির্বাচনী প্রস্তুতি তৎপরতা বেড়েছে। কর্মব্যস্ত বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটের সব সরঞ্জাম সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসাররা আসনভিত্তিক ভোটের উপকরণ গ্রহণ করছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যেখানে ১১ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। এই সেল জেলার সমস্ত আসনের ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাও এ থেকেই হচ্ছে।
সরজমিনে ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৮ সহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনে দেখা যায়, প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ভ্যেন্যুতে এসে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি গ্রহণ করছেন। ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, কেন্দ্রভিত্তিক ভোটার তালিকা সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বুঝিয়ে দিচ্ছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। পুলিশ ও আনসার ভিডিপি গাড়ি যোগে এসব সরঞ্জাম কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলায় ছয়টি নির্বাচনী এলাকায় মোট ৯১৩টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স ও অন্যান্য ভোট উপকরণ পাঠানো হয়েছে। বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে সহকারী রিটার্নিং অফিসার এসব সরঞ্জাম প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এরপর সেনাবাহিনীর প্রহরায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে এগুলো পৌঁছে দিচ্ছেন। জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ লাখ ২৭ হাজার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মাদারীপুরে সকাল থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসাররা ব্যালট পেপার, কালি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বুঝে নিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই সরঞ্জামগুলো কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হচ্ছে। মাদারীপুর-২ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব জানান, ধাপে ধাপে সব কেন্দ্র নির্বাচনী সরঞ্জাম পাবে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ফরিদপুরে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হওয়ার পর ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ সব প্রয়োজনীয় উপকরণ ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে। জেলা প্রশাসন প্রিজাইডিং অফিসারদের সরঞ্জাম বুঝিয়ে কেন্দ্রের দিকে রওনা দিচ্ছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ফরিদপুর জেলায় চারটি আসনে মোট ৬৫৭টি ভোট কেন্দ্র, ৩ হাজার ৪৯৩টি ভোট কক্ষ এবং ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯২৩ জন ভোটার রয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয়টি নির্বাচনী আসনের ৮০৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নির্বাচনী উপকরণ সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এরপর বিভিন্ন যানবাহনে সরঞ্জামগুলো কেন্দ্রে পৌঁছে যাচ্ছে। জেলায় মোট ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে ৮০৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৫ হাজার ১৫২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১০ হাজার ৩৬৪ জন পোলিং অফিসার।
নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে ৮৭৫টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাতটি বাহিনীর সাড়ে ১৬ হাজার সদস্য এবং প্রায় ৩৪ হাজার নির্বাচনী কর্মকর্তা মোতায়েন। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৬১৪টি সাধারণ এবং ২৬১টি ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত। সিসি ক্যামেরা প্রতিটি কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে। মোট ভোটার ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬৩৯ জন।
সাতক্ষীরার বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা ব্যালটসহ ব্যালট বক্স গ্রহণ করছেন। পুলিশ ও আনসার প্রহরায় কেন্দ্রে সরঞ্জামগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জেলার সাতটি উপজেলা ও চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ৬০৯টি এবং ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন।
সার্বিকভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন কমিশন সব কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনকে অবাধ, স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু করার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি এবং কর্মকর্তাদের তৎপরতার কারণে ভোটগ্রহণের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।