প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের উত্তরের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গ্রামে ফিরে আসায় ঢাকার ও টাঙ্গাইলের মধ্যবর্তী যমুনা সেতুতে এক বিরল ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত প্রতিদিন এখানে ১৫ থেকে ১৭ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষিতে টানা ছুটির কারণে গত ৩২ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ সময়ে ৪৫ হাজার ৬২৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ১৮ হাজার ৩০৫ টাকা।
যমুনা সেতুর টোল ম্যানেজার প্রবীর কুমার ঘোষ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছুটিতে দেশের উত্তরের মানুষজন গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন। এতে মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে টোল আদায়ও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে।” তিনি আরও জানান, মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভি নজরদারি এবং রুটে পুলিশ তৎপর থাকার ফলে যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
যমুনা সেতু বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোর মধ্যে একটি। এটি কেবল ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সংযোগ স্থাপন করে না, বরং দেশের অর্থনীতিকেও সরাসরি প্রভাবিত করে। নির্বাচনের মতো বিশেষ সময়ে জনগণের গ্রামে যাতায়াত বেড়ে যায়, যা সরাসরি সেতুর টোল আদায়ে প্রভাব ফেলে। এবারের ভ্রমণ প্রবণতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঈদ ছুটির সময়ের চেয়ে বেশি অর্থ আয় হয়েছে।
সরকারি সূত্রের মতে, সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারের এই রেকর্ড সংখ্যা শুধু ভোটের ছুটির কারণে হয়নি; এটি দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষজনের গ্রামে ফিরে যাওয়ার প্রতিফলন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার মানুষজন ভোট দিতে গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন, যা ট্রাফিক এবং টোল আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
সেতু ব্যবস্থাপনায় আরও জানানো হয়েছে, মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে টোল বুথগুলোতে পর্যাপ্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এটি একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে, কারণ প্রচুর ভিড়ের কারণে যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়াও, বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও যানজট মোকাবিলার জন্য যথাযথ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
যমুনা সেতু দেশের অর্থনৈতিক রক্তনালী হিসেবে বিবেচিত। এর ওপর দিয়ে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিবহনও চলে। সেতুর টোল আদায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়ন হিসেবে বিবেচিত হয়। এবারের রেকর্ড টোল আদায় শুধু নির্বাচনী ছুটির প্রভাব নয়, বরং এটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বকেও ফুটিয়ে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার সঙ্গে নির্বাচনী ছুটি ও মানুষের গ্রামে যাতায়াতের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন প্রবল ভিড় সেতুর ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা যায়। তবে কর্তৃপক্ষের পূর্বসতর্ক ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত কর্মী মোতায়েন এই চাপ সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা যমুনা সেতুর টোল এবং যানজটের ছবি ও তথ্য শেয়ার করছেন। অনেকেই মন্তব্য করছেন যে, এমন ভিড় এবং টোল আদায় দেখলে বোঝা যায় দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মানুষের অংশগ্রহণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, এটি মানুষের গ্রামে ফেরার এক মানবিক ও সাংস্কৃতিক ছবি উপস্থাপন করছে।
সেতুর টোল ম্যানেজার প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, “আমরা প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৭ হাজার যানবাহন পারাপারের জন্য প্রস্তুত থাকি। কিন্তু নির্বাচনের কারণে এই সংখ্যা এই মুহূর্তে অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের টিম সব সময় সতর্ক ও প্রস্তুত আছে যাতে কোনো সমস্যা না হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ সর্বোচ্চ গুরুত্বের মধ্যে রয়েছে।”
এইভাবে, যমুনা সেতু কেবল একটি ভৌত সেতু নয়, এটি দেশের মানুষ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জীবন্ত ছবি। ভোটের ছুটিতে দেশের উত্তরের মানুষ যখন গ্রামে ফিরেছেন, তখন এই সেতু তাদের যাতায়াতের অঙ্গীকার, দেশের অর্থনীতি এবং সরকারি পরিকল্পনার সাথে সরাসরি সংযুক্তি প্রদর্শন করেছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, নির্বাচনী সময়ের মানুষের স্থানান্তর শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি দেশের দৈনন্দিন জীবনের, অর্থনীতির এবং মানবিক চিত্রের সাথে গভীরভাবে জড়িত।