প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের উত্তেজনা দেশের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পড়েছে। এই নির্বাচনে সাধারণ মানুষ যেমন তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন, তেমনি জীবনের প্রথম ভোটে অংশ নিচ্ছেন দেশের পরিচিত মুখরা। সেই রূপকথার মতো মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও দীর্ঘদিনের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম-৯ আসনের আঞ্চলিক লোক প্রশাসন কেন্দ্রের ১৯ নম্বর ভোটকক্ষে তিনি জীবনের প্রথম ভোট দেন।
ভোটকক্ষে প্রবেশের সময় তামিমকে ঘিরে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রটোকল সদস্যরা। নিরাপত্তার সুনিশ্চিত পরিবেশে তিনি নির্ভয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান সম্পন্ন করেন। ভোটকক্ষের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জানালেন, সকাল থেকেই কেন্দ্রটি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছেন।
ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তামিম ইকবাল বলেন, “আজ জীবনের প্রথম ভোট। পছন্দের প্রার্থীকে একটি ভোটই দিয়েছি। ভোটের পরিবেশ ভালো ছিল এবং আমি আশা করি, সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ খুবই সুস্থ এবং উৎসবমুখর। জনগণ তাদের দায়িত্ব সচেতনভাবে পালন করছে। এটি একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের পরিচায়ক।”
তামিমের উপস্থিতি ভোটকেন্দ্রে ছোট-বড় ভোটারদের জন্য এক উৎসবমুখর মুহূর্ত সৃষ্টি করে। কেন্দ্রে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় ভোটার ও তরুণেরা তাকে ঘিরে ভিড় করেন। অনেকেই মোবাইলে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যেকোনো সাধারণ ভোটারের তুলনায় এখানে ভিড় বেশি ছিল, কারণ মানুষের চোখে তাদের প্রিয় ক্রিকেটারকেও দেখার আনন্দ ছিল। তরুণ ভোটারদের মধ্যে উদ্দীপনা, উত্তেজনা এবং ভোটে অংশগ্রহণের উত্তেজনা একসাথে ফুটে উঠেছিল।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের ভোটাররা জানান, কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে যথেষ্ট সাহায্য করছে। ভোট কেন্দ্রের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই প্রভাবশালী ছিল যে ভোটাররা ভয় বা শঙ্কা ছাড়া কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারছেন। স্থানীয় একজন ভোটার বলেন, “আজকের দিনে এমন শান্তিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র দেখে খুব ভালো লাগছে। সবাই উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে এসেছে।”
তামিম ইকবাল বলেন, ভোট শুধু একটি অধিকার নয়, এটি নাগরিক দায়িত্ব। “ভোট দেওয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করি। এটি আমাদের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। আমি আশা করি, তরুণ প্রজন্ম সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং ভোট প্রদানের গুরুত্ব উপলব্ধি করবে।” তিনি তার বক্তব্যে ভোটের প্রতি সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
এদিন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিবারের সঙ্গে এসে ভোট দিচ্ছেন বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে, বিভিন্ন বয়সী মানুষদের মুখে দেখা যাচ্ছিল উৎকণ্ঠা ও আনন্দের মিশ্রণ। ভোট প্রদান শেষে তামিম ইকবাল কেন্দ্র থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের জানান, ভোট প্রদানের সময় ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ খুবই উৎসবমুখর ছিল। তিনি বলেন, “ভোট প্রক্রিয়া সুন্দরভাবে চলছে এবং ভোটাররা উৎসাহের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন। এটি আমাদের গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করছে।”
চট্টগ্রাম-৯ আসনে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। পুরুষ ও নারী ভোটারের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও এখানে ভোট দিচ্ছেন। ভোটকেন্দ্রের প্রশাসন জানিয়েছে, সকালের শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটারদের সুশৃঙ্খল উপস্থিতি, পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে সততা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু রাখছে।
ভোট প্রদান শেষে তামিম ইকবাল আরও বলেন, “ভোট একটি দায়িত্ব। প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন এই অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। সবার উচিত ভোট কেন্দ্রে এসে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করা।”
এদিনের নির্বাচনে শুধু ভোটদান নয়, ভোটকেন্দ্রে মানুষের অনুভূতি ও উৎসাহও নজর কাড়ে। ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রমাণ করছেন যে, গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তামিম ইকবালের মতো পরিচিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি আরও এক ধাপ উজ্জ্বলতা যোগ করছে এই নির্বাচনী উৎসবে। তাদের বক্তব্য ও আচরণ তরুণ ভোটারদের উৎসাহিত করছে, ভোটপ্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছে।
সংক্ষেপে বলা যায়, জীবনের প্রথম ভোটে অংশ নেওয়া তামিম ইকবাল কেবল নিজেই তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন তা নয়, ভোট কেন্দ্রের পরিবেশকে উৎসবমুখর এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও উৎসাহ বৃদ্ধি করেছেন। তার উপস্থিতি ভোটকেন্দ্রের শান্তি, সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের দিকে একটি মানবিক ও পাঠকআকর্ষণীয় বার্তা বহন করছে। তামিমের এই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ দেশের গণতন্ত্রকে নতুন প্রাণশক্তি যোগ করেছে এবং ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ ও দায়বদ্ধতা জাগ্রত করেছে।