ঝিনাইদহ-১ আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী আসাদুজ্জামান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোট গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্রে তার বিজয়ের তথ্য নিশ্চিত হয়। ১১৭টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল একত্র করার পর ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রাপ্ত চূড়ান্ত বেসরকারি ফল অনুযায়ী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২১ ভোট। এই বড় ব্যবধান স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঝিনাইদহ-১ দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। এবারের নির্বাচনে শুরু থেকেই প্রধান লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল ধানের শীষ সমর্থিত প্রার্থী এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে। ভোটের দিন সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ছিল মাঝারি উপস্থিতি। দুপুরের দিকে কিছু কেন্দ্রে চাপ বাড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল বলে প্রশাসন জানায়।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকেরা বলছেন আসাদুজ্জামানের পক্ষে সংগঠিত প্রচারণা এবং আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ভোটে প্রভাব ফেলেছে। তিনি নির্বাচনী প্রচারে আইনের শাসন শক্তিশালী করা প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তার সমর্থকেরা দাবি করেন পেশাগত সুনাম ও কেন্দ্রভিত্তিক সমন্বয় বড় ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমানও মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তিনি স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ওপর জোর দেন। তবে ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ভোটের ভারসাম্য একদিকে ঝুঁকেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন কেন্দ্রভিত্তিক ফল পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় বেশিরভাগ এলাকাতেই বিএনপি প্রার্থী ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে ছিলেন।

জাতীয় প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে ভোটগ্রহণ নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন হয়।

ঝিনাইদহ-১ আসনের ফল ঘোষণার পর বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের আবহ দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে সমর্থকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের আগে ফলাফলকে বেসরকারি ধরা হচ্ছে। চূড়ান্ত ঘোষণা প্রকাশিত হলে আইনি স্বীকৃতি সম্পন্ন হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন এই ফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বড় ব্যবধান ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক শক্তি জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের জন্য এটি কৌশল পুনর্বিবেচনার বার্তা বহন করে।

ভোটারদের প্রত্যাশা এখন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘিরে। সড়ক অবকাঠামো কৃষি সহায়তা কর্মসংস্থান শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত উন্নয়ন—এসব ইস্যু সামনে এসেছে নির্বাচনী প্রচারে। নতুন প্রতিনিধির সামনে থাকবে এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ।

ঝিনাইদহ-১ এর এই ফল জাতীয় রাজনীতির সামগ্রিক চিত্রের অংশ। নির্বাচনের উত্তাপ শেষে এখন অপেক্ষা কার্যকর প্রতিনিধিত্বের। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ কতটা সম্ভব হবে সেটিই আগামী দিনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত