প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভারতের ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ জেলায় বন্য হাতির আক্রমণে একই পরিবারের চার সদস্যসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে চুরচু ব্লকের গোন্ডোয়ার গ্রামে প্রবেশ করে হাতির দলটি পদদলিত করে এই হতাহতের ঘটনা ঘটায়। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হাজারিবাগ পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বিকাশ কুমার উজ্জ্বল জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আহত এক শিশুকে উদ্ধার করে হাজারিবাগের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুর অবস্থা এখনও গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই হাতির দলটি গত কয়েকদিন ধরে বোকারো, রামগড় এবং হাজারিবাগ জেলায় মানুষদের আতঙ্কিত করছে। এর আগে বোকারোতেও এদের আক্রমণে প্রাণহানি ঘটেছিল।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাতির আক্রমণ সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়ঙ্কর ধাক্কা দিয়েছে। গ্রামের অনেকেই ঘরবাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। হাতির দলটি সাধারণত রাতে গ্রামের দিকে আসে এবং ধানক্ষেত ও ফসলের জমি তছনছ করে। এই ঘটনা শুধু প্রাণহানির কারণ নয়, বরং মানুষের জীবিকায়ও ব্যাপক ক্ষতি করছে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাতির চলাচলের এলাকায় পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যাতে রাতের বেলায় ঘরের বাইরে না বের হন এবং বন্য প্রাণীর চলাচলের পথ এড়ানো হয়। এছাড়াও, হাতি দমনে বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে।
হাজারিবাগ জেলার বিভিন্ন অংশে হাতির আক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। বন কর্মকর্তারা মনে করছেন, মানব বসতি ও বনাঞ্চলের কাছাকাছি বসবাস করা হাতি দলের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে। মানুষের বসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাতির প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি এবং খাবারের অভাবও এ ধরনের আক্রমণের পেছনের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা শোকাহত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে যে, সতর্কতা ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন প্রাণঘাতী ঘটনাকে রোধ করা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতি এবং মানুষের সহাবস্থানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন, যাতে মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষিত থাকে এবং বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত না হয়।
এই ধরনের প্রাণী–মানব সংঘাতের ঘটনা সামাজিক সচেতনতারও আহ্বান জানাচ্ছে। স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি, বন বিভাগ ও প্রশাসনের তৎপরতা এবং বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা গ্রহণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে মানব-বন্যপ্রাণী সহাবস্থানের কৌশলও জরুরি।
এভাবে ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ জেলায় বন্য হাতির আক্রমণে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড স্থানীয়দের জন্য এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তবে একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সতর্কতা ও সচেতনতা অপরিহার্য। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের আক্রমণগুলো যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ বন বিভাগ ও প্রশাসনের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছে, কিন্তু তারা চাইছেন দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ব্যবস্থা, যাতে মানুষ এবং বন্যপ্রাণী উভয়ের জন্যই নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের জন্য সচেতনতা, পরিকল্পনা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণই একমাত্র সমাধান।
বন দফতর ইতিমধ্যেই হাতি দমন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। তাছাড়া আহত শিশুর চিকিৎসা ও স্থানীয়দের মনস্তাত্ত্বিক সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই দুর্ঘটনা শুধু ঝাড়খণ্ড নয়, সমগ্র ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নীতি এবং মানব-বন্যপ্রাণী সংঘাতের প্রতি গভীর সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।