প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ও দ্বিধাহীনভাবে জাতীয় সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলোর পক্ষে তাদের রায় দিয়েছেন। এই গণরায় স্পষ্ট হয়েছে যে দেশের নাগরিকরা আর পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চান না বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চান না। বরং তারা পরিবর্তন, সংস্কার এবং রাষ্ট্রব্যবস্থায় নতুন দিকনির্দেশনার প্রত্যাশী।
শনিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক ব্রিফিংয়ে আলী রীয়াজ বলেন, “একটি জাতীয় রূপান্তর কখনো একক সিদ্ধান্ত বা একক শাসনের মাধ্যমে টেকসই হতে পারে না। জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি। পরিবর্তনের চূড়ান্ত বৈধতা আসে জনগণের সম্মতি থেকে। তাই দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে জনগণকে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়াই গণতান্ত্রিক পথের মূল ভিত্তি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই লক্ষ্যেই আমরা গণভোটের আয়োজন করেছি, যাতে জনগণ দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কারের দিশা নির্ধারণে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ স্পষ্টভাবে সংস্কারের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছেন।
আলী রীয়াজ বলেন, “গণভোটে প্রদত্ত জনগণের রায়কে শুধুমাত্র সংখ্যার দিক থেকে দেখলে হবে না। এটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা অকুতোভয়ে লড়াই করেছেন, তাদের দেওয়া দায়িত্ব ও ত্যাগের স্বীকৃতি। জনগণের এই অঙ্গীকার পালনের মাধ্যমে আমাদের সামনে নতুন দায়িত্ব এসেছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রায় ১৬ বছর ধরে যারা নিজেদের প্রাণ, রক্ত, অশ্রু এবং সংগ্রামের মাধ্যমে দেশের জন্য লড়েছেন, তাদের ত্যাগ যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই জনগণ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সংস্কারের জন্য মত প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “গণভোটে প্রকাশিত সুস্পষ্ট জনগণের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দল অঙ্গীকারবদ্ধ। ক্ষমতাসীন দল, জাতীয় সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদসহ সংসদের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছি, আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে এই গণরায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”
আলী রীয়াজের ভাষণে উঠে আসে জনগণের আকাঙ্ক্ষা, যেখানে দেশের নাগরিকরা পুরনো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতায় ফিরে যেতে চান না। জনগণ চাইছেন সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থায় নতুন মান, প্রগতি এবং ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা। তিনি বলেন, গণভোট কেবল ভোটের সংখ্যা নয়, এটি জনগণের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্বের প্রকাশ। এটি তাদের আশা, আকাঙ্ক্ষা এবং ত্যাগের প্রতিফলন।
তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের রূপান্তরকে টেকসই ও গণতান্ত্রিক করে তুলতে সক্ষম। আলী রীয়াজ বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের রায় নির্দেশ করে, তারা আর পুরনো ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি চান না। পরিবর্তন, সংস্কার এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়াই তাদের প্রত্যাশা।”
তিনি আরও যোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই এই রায় বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। আলী রীয়াজ বলেন, “সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানাই—গণভোটের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জনগণের আশা পূরণে মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এটা শুধু একটি রাজনৈতিক দায় নয়, বরং জাতীয় কর্তব্য।”
আলী রীয়াজের বক্তব্যে উঠে এসেছে, দেশের জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং এটি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য একটি স্পষ্ট সংকেত। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে জনগণ সরাসরি অংশগ্রহণ করলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের উন্নয়ন সম্ভব। এই রায় বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্থার কাছে একটি চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ, যা রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে কার্যকর করা আবশ্যক।