প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন হওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়। তিনি এই মন্তব্য করেছেন এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক চাপ বাড়াতে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “মনে হয়, সরকার পরিবর্তন হওয়াই সবচেয়ে ভালো হবে।” হোয়াইট হাউসে তিনি আগে উল্লেখ করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড খুব শীঘ্রই মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দেবে। ট্রাম্পের মন্তব্য ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা যদি কোনো চুক্তি করতে না পারি, তবে আমাদের এটার প্রয়োজন পড়বে।” যদিও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, কাকে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলে দেখতে চান। তিনি শুধু সংক্ষেপে বলেন, “এমন মানুষ আছেন।” ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা ইরানের ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত করার সবচেয়ে প্রকাশ্য আহ্বান হিসেবে দেখছেন।
এ সময়ের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের আগের পদক্ষেপগুলোর দিকে ফিরে দেখলে দেখা যায়, পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে ইরানকে চুক্তিতে রাজি করানোর প্রচেষ্টা চলছিল। এর আগে কিছুটা সরতে দেখা গেলেও ট্রাম্প নিয়মিতভাবে খামেনি ও ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে হুমকি উচ্চারণ করেছেন।
গত মাসে ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের কঠোর দমন অভিযানে মানবাধিকার সংস্থাগুলি দাবি করেছে, কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ট্রাম্প তখন মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের সহায়তা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পরে তিনি পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আরও গুরুত্ব দেন।
ইরানের শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, নিরীহ মানুষের প্রাণহানি রোধ করতে মানবিক হস্তক্ষেপ জরুরি। পাশাপাশি তিনি দেশ-বিদেশের ইরানিদের পুনরায় আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের মন্তব্য কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে উত্তেজনার মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনকরণের প্রভাব সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলোতে মারাত্মক হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ট্রাম্পের মন্তব্যকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন বা অভ্যুত্থান আন্তর্জাতিক আইনের দিক থেকে জটিল এবং অপ্রত্যাশিত মানবিক ও রাজনৈতিক ফলাফল ডেকে আনতে পারে।