প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন বার্তা জামায়াত আমিরকে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন বার্তা জামায়াত আমিরকে

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জনের পর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরকে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বার্তায় ড. ইউনূস বলেন, ‘নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আপনার রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম ও দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকালীন সময়ে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংবাদ মাধ্যমে উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে দেশকে এগিয়ে নিতে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও অংশগ্রহণমূলক করা অপরিহার্য। এই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ প্রদান, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে—এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’

ড. ইউনূস বার্তায় যোগ করেন, ‘জাতীয় ঐক্য সুসংহত রাখতে আপনি অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য এটি অপরিহার্য।’ তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যখন দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে, তখন দেশের জনগণ এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক ফলাফল নিশ্চিত হবে।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ, শান্তিপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণের প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ড. ইউনূসের এই বার্তা মূলত দেশের রাজনৈতিক সংহতি ও সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্ব আরোপ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, জামায়াত ভবিষ্যতেও সংসদীয় অঙ্গনে গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বার্তায় বৈশ্বিক ও দেশীয় চ্যালেঞ্জের প্রতি সচেতনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন একত্রে কাজ করে জাতীয় উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে।

এই অভিনন্দন বার্তা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী দল ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রধান উপদেষ্টা বার্তাটি গুরুত্ব দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত