প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়ে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করেছেন মসজিদের খতিব মুফতি আবুল হাসান। ৫৯ বছর বয়সী মুফতি আবুল হাসান দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী শিক্ষা ও খেদমতে যুক্ত ছিলেন। পেশায় তিনি ইমাম ও খতিব, একই সঙ্গে মাদরাসায় শিক্ষকতাও করেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ইসলামী বক্তা হিসেবে সুপরিচিত, এবং ভোটের পরদিনও তিনি নিজের দায়িত্ব অনুযায়ী মসজিদে ইমামতি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিলেট-৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। মুফতি আবুল হাসান ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের হয়ে ‘দেয়াল ঘড়ি’ প্রতীকে ভোটে অংশ নেন এবং ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট অর্জন করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুক ‘খেজুরগাছ’ প্রতীকে ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট পান। প্রায় ৯ হাজার ৫৮১ ভোটের ব্যবধানে তিনি বিজয়ী হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুফতি আবুল হাসান জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের মাঝরগ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ ও মোছাম্মাৎ আছারুন বিবির সন্তান। ১৯৬৬ সালের ১৫ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবন ও ধর্মীয় কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে নিজের জীবনকে সমাজকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ১৯৯৩ সালে শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত হন এবং বর্তমানে জকিগঞ্জের জামিয়া ইসলামিয়া দারুসসুন্নাহ মোহাম্মদিয়া লামারগ্রাম মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। ২০০০ সালের জুন থেকে জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের উপদেষ্টার দায়িত্বেও নিয়োজিত।
বিজয়ী হওয়ার পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিক্রিয়ায় মুফতি আবুল হাসান বলেন, “আল্লাহর রাসূল মিম্বর থেকে দেশ পরিচালনা করেছেন। আমরা তো ওই রাসূলের উত্তরসূরি বা উম্মত। সেই হিসাবে মসজিদের মিম্বর থেকে আলহামদুলিল্লাহ এখন সংসদ ভবন পর্যন্ত পৌঁছেছি দেশের খেদমতের জন্য, মিল্লাতের খেদমতের জন্য। আমরা চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।” তিনি আরও জানান, তার মূল লক্ষ্য হলো জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেসব ক্ষেত্রে এলাকাটি পিছিয়ে আছে, সেখানে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুফতি আবুল হাসানের নির্বাচনী সাফল্য সিলেটজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার বিজয়কে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বিশেষ করে ধর্মীয় সমাজ ও স্থানীয় শিক্ষক মহল তাকে সমর্থন জানাচ্ছে। একজন ইমামের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি দেখাচ্ছে, ধর্ম ও রাজনীতিকে সমন্বয় করার মাধ্যমে সমাজসেবা ও উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি সম্ভব।
এমন বিজয় কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সিলেটের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জনমত অনুযায়ী, মুফতি আবুল হাসান ইমামের ভুমিকায় অর্জিত সম্মান ও বিশ্বাস তাকে রাজনৈতিক জীবনে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। তিনি মসজিদ, মাদরাসা ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, যার ফলে ভোটারদের কাছে তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত বেশি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মুফতি আবুল হাসানের বিজয় এক ধরনের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে যেখানে ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা রাজনৈতিক নেতৃত্বে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে তিনি যেখানে ধর্মীয় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন, তার তাৎপর্য ভোটের ফলাফলের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি এবং ভোটাভুটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিজয়ী মুফতি আবুল হাসান নিজে বলছেন, তার লক্ষ্য শুধুমাত্র ক্ষমতা নয়, বরং মানুষের জন্য কাজ করা। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, সংসদে নির্বাচিত হয়ে এলাকার অবকাঠামো, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন।
এছাড়া তিনি স্থানীয় কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনা ভোটারদের মনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
সিলেট-৫ আসনের এই নির্বাচনী ফলাফল দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ধর্মীয় নেতাদের জন্য নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে। এটি দেখাচ্ছে, একজন ব্যক্তি তার ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসতে পারেন এবং জনগণের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করতে পারেন। মুফতি আবুল হাসানের এই বিজয় কেবল তার ব্যক্তিগত নয়, পুরো সম্প্রদায়ের জন্য উৎসাহ ও উদ্দীপনার উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মুফতি আবুল হাসানের নির্বাচনী যাত্রা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মিলিত প্রভাব তাকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে প্রিয় করে তুলেছে। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত থেকে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বজায় রাখছেন, যা দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য মজবুত ভিত্তি রচনা করছে।
এই নির্বাচনী সাফল্য থেকে অনুধাবন করা যায়, ধর্ম, শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মিলিত প্রয়াস কিভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মুফতি আবুল হাসানের উদাহরণ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও অনুপ্রেরণা হতে পারে যেখানে ধর্মীয় নেতারা সমাজসেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতে পারেন।
সিলেট-৫ এর জনগণ এখন নতুন প্রত্যাশা নিয়ে তার নেতৃত্বকে দেখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশাবাদী, মুফতি আবুল হাসান ধর্ম ও সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রেখে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন। এই ধরনের নেতৃত্বের ফলে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে ধীরে ধীরে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে, যেখানে ধর্মীয় ও সমাজকল্যাণমূলক মূল্যবোধকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হবে।