বারবার জ্বর আসা কী বড় কোনো রোগের ইঙ্গিত?

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ বার
বারবার জ্বর আসা কী বড় কোনো রোগের ইঙ্গিত?

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘদিন ধরে অল্প অল্প জ্বর আসা অনেকেরই শারীরিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় শরীরটা সবসময় গরম থাকার মতো অনুভূতি তৈরি হয়, কিন্তু থার্মোমিটারের পারদ খুব বেশি উপরে উঠে না। সাধারণত ৯৯ থেকে ১০১ ফারেনহাইটের মধ্যে থাকলে এটি হালকা জ্বর হিসেবে ধরা হয়। যদিও এটি বড় কোনো রোগের প্রাথমিক সংকেত নাও হতে পারে, তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। অল্প জ্বর শরীরে কোনো সুপ্ত রোগের উপস্থিতি বা সংক্রমণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

শরীরের তাপমাত্রা একটু উপরে থাকলে কিছু গুরুতর অসুস্থতার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যক্ষ্মা, লিম্ফোমা, কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া, এইচআইভি সংক্রমণ, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ফোড়া, কানেকটিভ টিস্যু রোগ, থাইরয়েড সমস্যা এবং ফুসফুস, লিভার বা কিডনির ক্যানসারেও অল্প অল্প জ্বর থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে জ্বর থাকলে সতর্কতা জরুরি।

প্রাথমিকভাবে রোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত ইতিহাস নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর কখন আসে, কীভাবে আসে, কীভাবে চলে যায়, দিনের কোন সময় বেশি থাকে, জ্বরের সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না—এসব তথ্য চিকিৎসকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি জ্বর দীর্ঘদিন ধরে থাকে, বিকেলের দিকে বেশি হয়, রাতে থাকে এবং সকালে কমে যায়, ঘাম দিয়ে জ্বর কমে এবং দুই সপ্তাহের বেশি কাশি থাকে, কখনো কখনো কাশির সঙ্গে রক্ত দেখা দেয়, শরীরের ওজন কমে যায় এবং খাবারে অরুচি থাকে, তাহলে যক্ষ্মার সম্ভাবনা থাকে।

অল্প অল্প জ্বরের সঙ্গে রাতে ঘাম হওয়া, ক্ষুধামন্দা, শরীরে চুলকানি, জন্ডিসের ইতিহাস বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গ্রন্থি ফুলে যাওয়ার ঘটনা থাকলে লিম্ফোমা সন্দেহ করা হয়। ডান দিকের উপরের পেটে ব্যথা, মাঝেমধ্যে পাতলা পায়খানা এবং লিভার বা পিত্তথলিতে সমস্যা থাকলে ফোড়া বা লিভারের সংক্রমণ চিন্তাযোগ্য। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, দুর্গন্ধযুক্ত হলুদ রঙের কাশি বা ফুসফুসে ফোড়া থাকলেও চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন।

কালাজ্বরের সম্ভাবনা দেখা দেয়, যদি দীর্ঘদিনের জ্বরের সঙ্গে খাবারের রুচি ঠিক থাকলেও ওজন কমে যায়, যেখানে বাস করছেন সেখানে মাটির ঘরে মেঝেতে থাকা বা পশুর কাছাকাছি থাকা ইতিহাস থাকে এবং রক্তে অ্যানিমিয়া বা পেটের উপরের অংশে চাকা দেখা যায়। কানেকটিভ টিস্যু রোগ যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা এসএলইয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন জ্বরের সঙ্গে গিঁটে গিঁটে ব্যথা, সকালে ব্যথা বেড়ে যাওয়া, মুখে ঘা এবং শরীরে লাল দাগ দেখা দেয়।

এই ধরনের অল্প জ্বরের কারণে শারীরিক কষ্ট অনেক বেশি হয়। গা, হাত-পা ব্যথা করে, শরীর দুর্বল অনুভূত হয় এবং সাধারণ দৈনন্দিন কাজ করা কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। তাই অনেক সময় হাতের কাছে থাকা প্যারাসিটামল খেয়ে স্বল্প উপশম পাওয়া যায়। তবে শুধুমাত্র ওষুধের ওপর নির্ভর না করে ঘরোয়া যত্নও জরুরি। বিশেষজ্ঞরা ঘরোয়া পদ্ধতি হিসেবে প্রথমেই পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেন। জ্বর থাকলে শরীরের পানি দ্রুত কমে যায়, তাই পানি, জুস, স্যুপ বা স্যালাইন পান করা প্রয়োজন।

শরীরকে বিশ্রাম দেওয়াও অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বিশ্রাম অপরিহার্য। কারণ জ্বরের সময় শরীরের ইমিউনিটি সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে, তাই শক্তি বাঁচানো গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে ঠান্ডা কাপড় ভিজিয়ে মাথায় দেওয়াও জ্বর কমানোর একটি কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি। যদি গোসল করা সম্ভব হয়, ঠান্ডা পানিতে গোসল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে গোসলের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, এবং জ্বর তিন দিনের মধ্যে কম না হলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ জরুরি।

জ্বরের সময় তরল খাবার খাওয়া বিশেষভাবে প্রয়োজন। প্রচুর পানি, ফলের রস, হার্বাল চা এবং স্যুপ গ্রহণ শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। বরফ বা ফ্রিজে রাখা ফলের রস খেলে শরীরের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কমানো যায়। এছাড়া ঠান্ডা লাগা ও গলার ব্যথার জন্য গার্গেলও উপকারী। এক গ্লাস গরম পানিতে আদা ও লবণ দিয়ে গার্গেল করলে গলার ব্যথা ও অস্বস্তি কমে।

অল্প অল্প জ্বরকে ঘনঘন উপেক্ষা করলে তা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সূচনা করতে পারে। তাই শরীরে যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন, ঘন ঘন জ্বর আসা বা শরীরের অতিরিক্ত গরম থাকলে সতর্ক হওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সময়মতো চিকিৎসা নিলে যেকোনো গুরুতর রোগের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

সুতরাং অল্প জ্বরকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পর্যাপ্ত পানি পান, বিশ্রাম, ঘরোয়া যত্ন এবং সতর্ক পর্যবেক্ষণ একত্রে থাকলে শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। দীর্ঘদিন অল্প জ্বর থাকলে অবশ্যই প্রফেশনাল চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত