নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রুখতে কঠোর পদক্ষেপের দাবি নাহিদের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ বার
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রুখতে কঠোর পদক্ষেপের দাবি নাহিদের

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশজুড়ে সহিংসতা, প্রতিহিংসা এবং দখলদারিত্বের অভিযোগে রাজনৈতিক অঙ্গন যখন উত্তপ্ত, তখন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সংঘটিত হামলা ও সন্ত্রাস গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং বিরোধী মতকে দমন করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন হলো জনগণের মতামত প্রকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু সেই নির্বাচন শেষে যদি সহিংসতা শুরু হয়, তাহলে তা শুধু প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং পুরো গণতান্ত্রিক কাঠামোকেই দুর্বল করে দেয়। নাহিদ ইসলামের মতে, ক্ষমতার উল্লাসে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানো গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী এবং এটি একটি ভয়ভীতির সংস্কৃতি তৈরি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।

তার বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এগারো দলীয় জোটের নেতাকর্মী, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় অনেক মানুষ আহত হয়েছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সহিংসতা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক ধারার অংশ নয়; বরং এটি সংগঠিতভাবে শক্তি প্রদর্শন এবং প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার অপচেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো রাজনৈতিক শক্তি যদি সেই ম্যান্ডেটকে ভয়ের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে তা জনগণের বিশ্বাসের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো মতের ভিন্নতা এবং সেই ভিন্নতার মধ্যেও সহাবস্থান নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমানে যে সহিংসতার চিত্র সামনে আসছে, তা সেই সহাবস্থানের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনের দায়িত্ব হলো সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে যদি কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে তা রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার জন্য একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসনের নীরবতা বা গড়িমসি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এতে জনগণের মধ্যে হতাশা এবং অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে, যা গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কোনো ধরনের পক্ষপাত ছাড়াই সবার বিরুদ্ধে সমানভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তার বিবৃতিতে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা কোনো ধরনের অন্যায় বা দখলদারিত্ব মেনে নেবে না। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন প্রজন্ম এবং সচেতন নাগরিক সমাজ গণতন্ত্র রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে প্রস্তুত।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের মানুষ একটি শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র চায়। তারা এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে সবাই স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে এবং নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। সহিংসতা এবং ভয়ভীতির মাধ্যমে সেই পরিবেশ নষ্ট করা হলে তা দেশের উন্নয়ন এবং অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান এবং বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যেন কখনোই সহিংসতায় রূপ না নেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। অতীতেও বিভিন্ন নির্বাচনের পর এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিবারই এই বিষয়টি দেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতা শুধু ব্যক্তি বা দলের ক্ষতি করে না; এটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আস্থা কমিয়ে দেয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সক্রিয় এবং নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও সহনশীলতা এবং দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। কারণ গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহাবস্থান।

নাহিদ ইসলামের এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্যে যেমন উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, তেমনি সমাধানের পথও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, সহিংসতা বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে।

সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি এবং প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে সহিংসতার পরিবর্তে সংলাপ এবং আইনের শাসনের পথেই এগোতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই মুহূর্তের সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপের ওপর। সহিংসতা বন্ধ করে যদি একটি স্থিতিশীল এবং নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা যায়, তাহলে তা দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত