প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে নানা জল্পনা, আলোচনা এবং প্রত্যাশা। এরই মধ্যে স্পষ্ট সময়সীমা জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং জনগণের মধ্যেও নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষা আরও তীব্র হয়েছে।
শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন রয়েছে। এখন শুধু চূড়ান্ত নির্দেশনার অপেক্ষা। তিনি জানান, “আমরা আশা করছি, আগামী তিন থেকে চারদিনের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে। তবে এটি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।”
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিকভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো সময় শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায়। যদি আগামীকাল বা পরশু শপথের নির্দেশ আসে, সেটির জন্যও প্রস্তুতি রয়েছে। আবার যদি কয়েক দিন পর আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটি এখন প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতীকী ঘটনা। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের সূচনা। এই শপথের মধ্য দিয়েই নতুন মন্ত্রীরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
নতুন মন্ত্রীদের শপথ কে পড়াবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, এটি মূলত সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে এবং সেখান থেকেই বিষয়টি সমন্বয় করা হয়। তবে তিনি জানান, বিভিন্ন সাংবিধানিক পদাধিকারীর মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার অথবা তাদের মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পাঠ করাতে পারেন। প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকেও কাউকে মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনারও এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। যদিও তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি, তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিদের ব্যাপক উপস্থিতির কথাও জানিয়েছেন তিনি। প্রায় এক হাজার অতিথি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্ট নাগরিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
এ ধরনের আয়োজন শুধু একটি প্রশাসনিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। নতুন সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ এবং সমর্থনের প্রতিফলন দেখা যায় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতি নতুন সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলতেও সহায়ক হয়।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠন এবং শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তারা জানতে চাইছেন, কারা নতুন মন্ত্রী হচ্ছেন, কারা পুরোনো দায়িত্বে থাকছেন এবং কারা নতুন দায়িত্ব পাচ্ছেন। কারণ নতুন মন্ত্রিসভাই আগামী পাঁচ বছর দেশের নীতি নির্ধারণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন মন্ত্রিসভা দেশের সামনে থাকা নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক— সব ক্ষেত্রেই নতুন সরকারের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ।
এদিকে সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ইতোমধ্যে শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। অনুষ্ঠানস্থল প্রস্তুত করা, অতিথিদের আমন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার কাজ চলছে জোরেশোরে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত দেশের চলমান সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে মানুষের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, শপথ অনুষ্ঠান শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, এটি জনগণের সঙ্গে নতুন সরকারের একটি প্রতিশ্রুতির সূচনা। এই প্রতিশ্রুতির সফল বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে সরকারের জনপ্রিয়তা এবং সফলতা।
সব মিলিয়ে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। এখন সবার চোখ সেই অনুষ্ঠানের দিকে, যেখান থেকে শুরু হবে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা।