নিজের নাম ভাঙিয়ে পণ্য বিক্রি, আইনি লড়াইয়ে সুইফট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬ বার
নিজের নাম ভাঙিয়ে পণ্য বিক্রি, আইনি লড়াইয়ে সুইফট

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ব সংগীতাঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় শিল্পী টেইলর সুইফট আবারও আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এবার বিষয়টি কোনো গান, অ্যালবাম বা সংগীত স্বত্ব নিয়ে নয়; বরং তার নাম ব্যবহার করে বালিশ ও বিছানার চাদর বিক্রির অভিযোগ ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বেডিং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর এই অভিযোগ তুলে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন এই পপ তারকা। অভিযোগ উঠেছে, তার জনপ্রিয়তা ও ব্র্যান্ড ইমেজকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়িক সুবিধা নিতে ‘সুইফট হোম’ নামে পণ্য বাজারজাতের চেষ্টা করছে নিউ ইয়র্কের একটি প্রতিষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও আইনি নথিপত্র থেকে জানা গেছে, নিউ ইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্যাথে হোম বিছানার চাদর, বালিশসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্য বাজারজাত করার জন্য ‘সুইফট হোম’ নামে একটি ট্রেডমার্ক ব্যবহার করছে। এই নামটি ব্যবহার করার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেকেই মনে করতে পারেন, এসব পণ্যের সঙ্গে টেইলর সুইফটের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে অথবা তিনি নিজেই এই ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত। এই আশঙ্কা থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মার্কিন সরকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন এই শিল্পী।

টেইলর সুইফটের বৌদ্ধিক সম্পদ ও ট্রেডমার্ক বিষয়ক অধিকার রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান TAS Rights Management LLC বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপিল দায়ের করেছে। আপিলটি জমা দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেডমার্ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা United States Patent and Trademark Office-এ। গত বুধবার জমা দেওয়া ওই আইনি আপিলে বলা হয়েছে, ‘Swift Home’ নামটি শুধু একটি সাধারণ নাম নয়; এটি এমনভাবে লোগো হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা টেইলর সুইফটের স্বাক্ষরের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

আইনি নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের নাম ও লোগোর ব্যবহার গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং তারা ভুল করে ভাবতে পারেন যে এই পণ্যগুলোর সঙ্গে টেইলর সুইফটের অনুমোদন বা সম্পৃক্ততা রয়েছে। আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এটি কেবল একটি কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে সুইফটের জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্বে তারকাদের নাম ও পরিচিতি শুধু সাংস্কৃতিক বা বিনোদনমূলক সম্পদ নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান বাণিজ্যিক সম্পদ। একটি জনপ্রিয় নামের সঙ্গে কোনো পণ্যের সম্পর্ক থাকলে সেই পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা অনেকগুণ বেড়ে যায়। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান সচেতনভাবে বা কখনও কখনও অনুমতি ছাড়াই এমন নাম ব্যবহার করে বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করে।

এই প্রেক্ষাপটে টেইলর সুইফট বরাবরই তার ব্র্যান্ড পরিচয় রক্ষায় অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি শুধু একজন সংগীতশিল্পী নন, বরং একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। নিজের নাম, স্বাক্ষর, অ্যালবামের নাম, এমনকি গানের কিছু লাইন পর্যন্ত ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধন করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে ইতোমধ্যে ৩০০টিরও বেশি ট্রেডমার্ক নিবন্ধিত রয়েছে, যা তাকে তার পরিচয় ও সৃষ্টিকর্মের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সহায়তা করে।

এই ট্রেডমার্কগুলোর আওতায় রয়েছে পোশাক, প্রসাধনী, গৃহস্থালি পণ্য, প্রকাশনা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য। এর ফলে তার অনুমতি ছাড়া কেউ এসব ক্ষেত্রে তার নাম ব্যবহার করতে পারে না। ফলে ‘Swift Home’ নামের ব্যবহার তার বিদ্যমান ট্রেডমার্ক অধিকার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, টেইলর সুইফটের এই আইনি পদক্ষেপ শুধু তার ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়, বরং এটি একটি বড় বার্তা। এটি দেখিয়ে দেয় যে, তারকা পরিচয় এবং ব্র্যান্ড সুরক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তা রক্ষায় তারা কতটা কঠোর অবস্থান নিতে পারেন।

টেইলর সুইফট বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ধনী সংগীতশিল্পী হিসেবে বিবেচিত হন। বিশেষ করে তার সাম্প্রতিক বিশ্বভ্রমণ The Eras Tour ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। এই ট্যুর শুধু সংগীতপ্রেমীদের কাছেই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ট্যুর থেকে আয় এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

তার এই আর্থিক সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে তার সুপরিকল্পিত ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপনা এবং বৌদ্ধিক সম্পদের সুরক্ষা। তিনি তার নাম এবং পরিচয়কে একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আদালত বা ট্রেডমার্ক কর্তৃপক্ষ টেইলর সুইফটের অভিযোগকে যৌক্তিক বলে মনে করে, তাহলে ‘Swift Home’ ট্রেডমার্কটি বাতিল হতে পারে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যতে এমন নাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

এই ধরনের আইনি লড়াই নতুন কিছু নয়। অতীতে অনেক তারকাই তাদের নাম ও ব্র্যান্ড সুরক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে টেইলর সুইফটের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ তার ব্র্যান্ডের মূল্য এবং প্রভাব অত্যন্ত বেশি।

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, বর্তমান বিশ্বে একটি নাম শুধু একটি পরিচয় নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পদ। আর সেই সম্পদ রক্ষায় টেইলর সুইফটের মতো তারকারা কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নন।

এখন সবার নজর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেডমার্ক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে। তারা যদি সুইফটের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে এটি ভবিষ্যতে অন্য তারকাদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আর যদি ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত আসে, তাহলে বিষয়টি আরও বড় আইনি লড়াইয়ে গড়াতে পারে।

একজন শিল্পীর নাম তার পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর সেই পরিচয় রক্ষায় টেইলর সুইফটের এই পদক্ষেপ আবারও প্রমাণ করল, নিজের ব্র্যান্ড ও মর্যাদা রক্ষায় তিনি কতটা সচেতন এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত