প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের গঠন ও উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে হবে। তার ভাষায়, “ভোটে অংশ নেওয়া ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতামতের ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে দেশ গঠনে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। এবার আমাদের দেশ গড়ার পালা।”
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশ গঠনের এই যাত্রায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “বিএনপির জয় কেবল দলের নয়, এটি বাংলাদেশের, দেশের মানুষের জয়।” সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্যান্য দলেরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারেক রহমান বলেন, “আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা এবং দুর্বল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে কাজ শুরু করছি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে আমরা একসাথে কাজ করব।”
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান দেশের মানুষের সঙ্গে বিএনপির দায়িত্বশীল আচরণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রাপ্ত জয় শুধুমাত্র রাজনৈতিক লড়াইয়ের ফল নয়, এটি দেশের জন্য একটি দায়িত্ব। দেশের মানুষ তাদের ভোটের মাধ্যমে যে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন, সেটি পূরণ করতে দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া তিনি দলের অঙ্গ ও সমর্থক সমাজের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের পর দেশ গঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সকলকে দায়িত্বশীল ও সংহত হতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দেশের স্বার্থে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা অটুট রাখা প্রয়োজন।
তারেক রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, বর্তমান সরকার গঠন ও দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএনপি একদিকে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, অন্যদিকে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় বিরোধী দল হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। দেশের অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে দলের সক্রিয় ভূমিকা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ তাদের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। সেই জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা জনগণের ভোট ও আশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করব। দেশ গড়ার জন্য দল ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করবে।” দেশের মানুষের কল্যাণ ও সার্বিক উন্নয়নে জাতীয় ঐক্য ও সহযোগিতার ওপর তারেক রহমানের বিশেষ জোর রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের সময় তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহমত ও সংলাপ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু এগুলো কখনো দেশকে বিভক্ত করতে পারে না। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও দেশের গঠন ও উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি দেশের নাগরিকদেরও আহ্বান জানিয়েছেন, দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন। দেশ গঠনের এই দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, দেশের নাগরিক ও রাজনৈতিক দলসমূহের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাস্তবায়ন সম্ভব। তারেক রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এবারের দায়িত্ব শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি দেশের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা। জনগণ আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছে, তাই দেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
সমালোচকদের মতে, তারেক রহমানের এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক জয় উদযাপন নয়, বরং একটি বৃহৎ জাতীয় প্রতিশ্রুতির দিকেও ইঙ্গিত করছে। তিনি দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক সংলাপ, অর্থনৈতিক সংস্কার, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
এভাবে তারেক রহমান দেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের পাশাপাশি একটি নৈতিক ও কার্যকরী দায়িত্বও তুলে ধরেছেন। দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলসমূহের সংহতি, জনগণের অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক সহায়তা এই উদ্যোগকে সাফল্যমণ্ডিত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংক্ষেপে বলা যায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জয়ের পর দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। তারেক রহমানের আহ্বান স্পষ্ট—এবারের মূল লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক জয়কে দেশের বাস্তব উন্নয়ন ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে রূপান্তরিত করা। দেশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে জাতীয় ঐক্য, দলীয় দায়িত্ব এবং জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।