প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের মধ্যে একটি হলো পাকিস্তান ও ভারতের দ্বৈরথ। এই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে আসন্ন মহারণের আগে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও তারকা ব্যাটার বাবর আজম মুখ খুলেছেন। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচকে ঘিরে বাবর আজমের বক্তব্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভক্তদের মধ্যে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
এক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্ল্যাটফর্মে কথা বলতে গিয়ে বাবর আজম বলেন, পাকিস্তান–ভারত ম্যাচের উত্তেজনা অনন্য এবং বৈশ্বিক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি উল্লেখ করেছেন, “পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ সবসময়ই হাই ইনটেনসিটি। পুরো বিশ্ব ও সমর্থকেরা এতে জড়িত থাকে। এত মানুষ দেখছে, এতে প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।” বাবর আরও বলেন, এমন ম্যাচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানসিক দৃঢ়তা। বাইরের আলোচনা, সমালোচনা বা মিডিয়ার চাপের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ না দিয়ে শান্ত ও স্বাভাবিক থাকা প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য অপরিহার্য।
৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার জোর দিয়েছেন, ম্যাচে ঠান্ডা মাথা এবং নির্ভার মনোভাব নিয়েই খেলাই সেরা ফলাফল দেয়। তিনি বলেন, “আমি অনেক ম্যাচ খেলেছি। আমরা শিখেছি, যত বেশি ঠান্ডা মাথায় ও নির্ভার থেকে খেলতে পারি এবং মানুষের কথায় কান না দিই, ততই ভালো ফল পাওয়া যায়। তরুণরা প্রায়ই উত্তেজিত হয়ে পড়ে, কিন্তু সহজ ও চাপমুক্ত থাকলে সেটাই আপনার পক্ষে কাজ করে।” বাবরের এই মন্তব্য তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে ধরা হচ্ছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাকিস্তান ও ভারতের মতো শক্তিশালী দলের মধ্যে প্রতিযোগিতার সময়।
গ্রুপ পর্বে এখন পর্যন্ত উভয় দলই অপরাজিত অবস্থায় রয়েছে। পাকিস্তান তার প্রথম দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। অন্যদিকে, সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারতও জয়লাভ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও নামিবিয়ার বিরুদ্ধে। তবে পরিসংখ্যানের দিক থেকে ভারত এখনও পাকিস্তানের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬টি ম্যাচে ভারত ১৩ জয়ে এগিয়ে আছেন, যেখানে পাকিস্তানের জয় সংখ্যা মাত্র তিনটি। বিশ্বকাপে দু’দলের আটবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারত ৬-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে, একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।
বাবর আজমের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে মানসিক শক্তি, চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং অভিজ্ঞতার গুরুত্ব। তিনি মনে করেন, এমন দিকগুলোই ম্যাচের ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলে। তার ভাষ্য, “যখন আপনি বড় ম্যাচ খেলবেন, তখন শুধু শারীরিক প্রস্তুতি নয়, মানসিক প্রস্তুতিও অপরিহার্য। আপনাকে নিজের খেলায় বিশ্বাস রাখতে হবে এবং সব পরিস্থিতিতে মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখতে হবে।”
এই সাক্ষাৎকারে বাবর আজম আরও উল্লেখ করেছেন, দলগত সমন্বয় ও অভিজ্ঞতা যুব খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করা, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা শিখতে হবে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে চাপ ও প্রত্যাশার মাত্রা অতিমাত্রায় বাড়ে, যা তরুণ খেলোয়াড়দের মানসিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাকিস্তান-ভারত ম্যাচের আগে বাবরের এই ধরনের বার্তা দলকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে। তিনি শুধুমাত্র নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করছেন না, বরং তরুণ ও নতুন খেলোয়াড়দের কাছে মানসিক শক্তি ও চাপ নিয়ন্ত্রণের কৌশল তুলে ধরছেন। এছাড়া, আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মাধ্যমে তার এই বক্তব্য ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা এবং আগ্রহ আরও বাড়াচ্ছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান-ভারত দ্বৈরথ ক্রিকেটে শুধু খেলার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, এটি দুই দেশের সমর্থক ও দর্শকদের মধ্যে আবেগের সংঘর্ষও সৃষ্টি করে। বাবর আজমের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা মানসিক দৃঢ়তা এবং স্ট্র্যাটেজির ওপর জোর দিয়ে দলের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হন। তাই এই ম্যাচের ফলাফলের সঙ্গে মানসিক প্রস্তুতির গুরুত্ব বিশেষভাবে বিবেচিত হবে।
সব মিলিয়ে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে বাবর আজমের বক্তব্য নতুন আলোচনার বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ক্রিকেট প্রেমীরা আশাবাদী, পাকিস্তানের দল মানসিকভাবে শক্ত অবস্থায় মাঠে থাকবে এবং উত্তেজনাপূর্ণ খেলা উপহার দেবে। পাশাপাশি, তাঁর এই পরামর্শ তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এক শিক্ষণীয় উদাহরণ হিসেবেও কাজ করবে।