প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলা একের পর এক উত্তেজনার মধ্যে প্রবেশ করেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাজার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো এলাকার জন্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে বোয়ালমারী উপজেলা ও সালথার সীমান্তে অবস্থিত ময়েনদিয়া বাজারে। জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করতেন মান্নান মাতুব্বর। এরপর জিহাদ মিয়া ও টুলু মিয়া বাজারটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। নির্বাচনের আগেরদিন মান্নান মাতুব্বর এলাকায় ফিরে এসে বাজার পুনরায় দখল নেন। এই পরিবর্তন নিয়ে শুক্রবার রাতে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
শনিবার সকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মান্নান মাতুব্বরের অনুসারীরা নটখোলা গ্রামবাসীদের ময়েনদিয়া বাজারে প্রবেশে বাধা দেয়, যা জিহাদের সমর্থকদের ক্ষিপ্ত করে তোলে। এর জের ধরে সকাল ৯টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, ঢাল ও সড়কি নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। রণক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। সংঘর্ষ চলাকালীন দুটি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়, এবং আরও ১২টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থার মানুষের সংখ্যা থাকলেও তাদের চিকিৎসা চলছে। স্থানীয়রা জানান, এলাকা জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, অনেক মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান জানান, “বাজার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। শনিবার সকালেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান চলমান রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে দুটি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এছাড়াও কমপক্ষে ১২টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ধরনের সহিংসতা এলাকার মানুষের নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন এলাকায় নিয়মিত তদারকি চালাচ্ছেন।
স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের দফায় দফায় বিরোধ ক্রমশ বড় আকার ধারণ করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপদে বাজার ব্যবহারে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া এই ধরনের সহিংসতা শিশু ও নারীদের ওপরও প্রভাব ফেলছে। অনেক পরিবার আতঙ্কিত হয়ে নিজেদের নিরাপদে স্থানান্তর করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ময়েনদিয়া বাজারের মত সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাজারে নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ভবিষ্যতেও হতে পারে, যদি প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়। সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য জরুরি ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন।
উপজেলার বাসিন্দারা জানান, তারা চাইছেন প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিক, যাতে বাজারে শান্তি ফিরে আসে। তারা আশা করছেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে সহায়তায় এনে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এই সংঘর্ষের প্রভাব শুধু বাজার ও তার আশপাশের এলাকায় নয়, পুরো উপজেলার সামাজিক পরিবেশেও অনুভূত হচ্ছে।
এ ঘটনার ফলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা আবারও সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। স্থানীয় এবং জাতীয় প্রশাসনকে এখন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন সহিংসতা প্রতিহত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ নিরাপদ থাকে।