প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইংলিশ ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার–এর জন্য চলতি মৌসুমটা যেন এক দীর্ঘ দুঃস্বপ্ন। প্রত্যাশা, সম্ভাবনা আর বাস্তবতার তীব্র ফারাক ক্লাবটির সমর্থকদের হতাশ করেছে বারবার। সেই হতাশার মধ্যেই নতুন আশার আলো দেখাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্রোয়াট কোচ ইগর টুডোর–কে। সাবেক এই ডিফেন্ডারকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চাইছে লন্ডনের ক্লাবটি।
মাত্র তিন দিন আগে কোচ টমাস ফ্রাঙ্ক–কে ছাঁটাই করার পর দ্রুতই নতুন কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় টটেনহ্যাম কর্তৃপক্ষ। ক্লাবটির এই দ্রুত পদক্ষেপই ইঙ্গিত দেয় যে পরিস্থিতি কতটা সংকটজনক হয়ে উঠেছিল। ক্লাবের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক অবনতির কারণে কোচ পরিবর্তনকে অনিবার্য মনে করেছিল পরিচালনা পর্ষদ। আর সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই বেছে নেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ ও দৃঢ় মানসিকতার কোচ টুডোরকে।
সাড়ে তিন মাস পর আবার ডাগআউটে ফিরছেন টুডোর। সর্বশেষ তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব জুভেন্টাস–এ। সেখানে তার সময়টা খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। প্রত্যাশা অনুযায়ী দলকে সফল করতে না পারায় গত বছরের অক্টোবরে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তবে ফুটবলবিশ্বে তার কোচিং দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি কখনোই। বরং কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে পুনর্গঠনের ক্ষমতার জন্য তিনি পরিচিত।
ফুটবল ক্যারিয়ারে ডিফেন্ডার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া টুডোর কোচ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ধীরে ধীরে। তুরস্কের গালাতাসারাই এবং ফ্রান্সের মার্সেই–এর মতো ক্লাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এসব ক্লাবে তার কাজের ধরন ছিল আক্রমণাত্মক কৌশল, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করার ওপর জোর দেওয়া। ফলে টটেনহ্যামের মতো একটি চাপে থাকা দলের জন্য তাকে উপযুক্ত পছন্দ বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।
টটেনহ্যামের বর্তমান অবস্থা নতুন কোচের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ–এ দলটির পারফরম্যান্স আশঙ্কাজনকভাবে খারাপ। ২৬ ম্যাচে মাত্র সাতটি জয় নিয়ে তারা অবস্থান করছে ১৬ নম্বরে। সংগ্রহ মাত্র ২৯ পয়েন্ট। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, নতুন বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লিগে কোনো ম্যাচেই জয় পায়নি দলটি। ক্লাবটির ইতিহাস এবং সমর্থকদের প্রত্যাশার সঙ্গে এই পারফরম্যান্সের কোনো মিল নেই।
তবে আশার জায়গা হলো, ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ–এ সরাসরি শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে টটেনহ্যাম। এটি প্রমাণ করে যে দলের ভেতরে সম্ভাবনা এখনও আছে। এখন প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা এবং আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। সেই দায়িত্বই এখন টুডোরের কাঁধে।
ক্লাবের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, টুডোরকে নিয়োগ দেওয়ার পেছনে তার কঠোর শৃঙ্খলা এবং আধুনিক কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সর্বোচ্চটা আদায় করতে পারেন এবং দলের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি করতে সক্ষম। বিশেষ করে ডিফেন্স সংগঠনে তার দক্ষতা টটেনহ্যামের বর্তমান দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হতে পারে।
টটেনহ্যামের সমর্থকদের কাছেও এই পরিবর্তন নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থকই টুডোরকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে তার নেতৃত্বে দল আবার জয়ের ধারায় ফিরবে। দীর্ঘদিন ধরে বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারা এই ক্লাবটির সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তারা চান, তাদের দল আবার ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষে ফিরে আসুক।
অন্যদিকে, টুডোরের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। জুভেন্টাসে ব্যর্থতার পর নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করার জন্য এটি একটি বড় মঞ্চ। ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগ বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক লিগ হিসেবে পরিচিত। এখানে সফল হওয়া মানেই কোচ হিসেবে নিজের অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টুডোর যদি দ্রুত দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরি করতে পারেন এবং সঠিক কৌশল প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলে টটেনহ্যাম আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভালো পারফরম্যান্স এবং লিগে অবনমন এড়ানো এখন ক্লাবটির প্রধান লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে, টটেনহ্যামের জন্য এটি একটি নতুন শুরুর সময়। সংকটের এই মুহূর্তে ক্লাবটি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, টুডোর তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দিয়ে কতটা দ্রুত দলকে সাফল্যের পথে ফিরিয়ে আনতে পারেন।
ফুটবল একটি অনিশ্চয়তার খেলা। এখানে এক মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে সবকিছু। টটেনহ্যামের সমর্থকরাও এখন সেই পরিবর্তনের অপেক্ষায়। নতুন কোচের অধীনে দলটি কি আবার জয়ের হাসি হাসবে, নাকি সংকট আরও গভীর হবে—তার উত্তর সময়ই বলে দেবে।