অস্ট্রেলিয়া তৈরি করছে পারমাণবিক সাবমেরিন কারখানা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১১ বার
অস্ট্রেলিয়া তৈরি করছে পারমাণবিক সাবমেরিন কারখানা

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অস্ট্রেলিয়া তাদের নৌবাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে একটি অত্যাধুনিক সাবমেরিন নির্মাণ কেন্দ্র, বা শিপইয়ার্ড তৈরি করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩.৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই অর্থকে ‘ডাউন পেমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এই শিপইয়ার্ড শুধুমাত্র একটি নির্মাণ কেন্দ্র নয়, বরং এটি অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ক্ষমতার প্রসার এবং দেশটির সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েক দশকে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণ প্রকল্পের মোট ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার। এ প্রকল্পের ফলে অস্ট্রেলিয়া তাদের সাবমেরিন বহরকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ করে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী তৈরি করবে।

চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র একত্রিতভাবে কাজ করছে। ২০২৭ সালের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সাবমেরিন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করবে। এরপর ২০৩০ সালের দিকে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েকটি ভার্জিনিয়া শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন ক্রয় করবে। পাশাপাশি ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানি যেমন বে সিস্টেম এবং এএসসি যৌথভাবে সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির সাবমেরিন তৈরি করবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রকল্প শুধু সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধিই নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান ক্ষেত্রেও বিশাল প্রভাব ফেলবে। শিপইয়ার্ডের নির্মাণ ও পরিচালনার ফলে আগামী কয়েক দশকে হাজার হাজার মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান পাবে। এই প্রকল্প দেশটিতে উচ্চ প্রযুক্তি এবং নৌ-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে স্থানীয় দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ অস্ট্রেলিয়ার জন্য এক নতুন যুগের সূচনা, যেখানে দেশটি শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সক্ষম হবে না, বরং সমুদ্রসীমায় তাদের কৌশলগত প্রভাবও বৃদ্ধি পাবে। পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের ফলে অস্ট্রেলিয়ার নৌ-ফোর্সের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা ভারসাম্য রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পেন্টাগনের রিভিউ অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া এ ক্ষেত্রে দ্রুতগতিতে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোচ্ছে। দেশটির সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগ কেবল প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি করবে না, বরং আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত গুরুত্বও বাড়াবে। বিশেষ করে, ভারতের মহাসাগর ও প্যাসিফিক অঞ্চলে এই প্রকল্পের প্রভাব গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, শিপইয়ার্ডের নির্মাণ ও সাবমেরিন উৎপাদন পর্যায়ে দেশটির স্থানীয় কোম্পানি ও শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করা হবে। এ প্রকল্পের ফলে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চমানের প্রযুক্তি স্থানান্তর ঘটবে, যা দেশের নৌ-প্রযুক্তি শিল্পকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে। এছাড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ক্ষেত্রেও এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “এই প্রকল্প আমাদের নৌ-সামরিক সক্ষমতাকে নতুন মাত্রা দেবে। এটি আমাদের প্রতিরক্ষা নীতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অঙ্গনে দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করবে। আমরা শুধুমাত্র আধুনিক সাবমেরিনই তৈরি করছি না, আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি ভিত্তি গড়ে তুলছি।”

এ প্রসঙ্গে সামরিক বিশ্লেষকরা বলেন, পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণের ফলে অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনী দ্রুত, দীর্ঘ দূরত্বে, এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন পরিচালনা সক্ষম হবে। এর ফলে দেশটি শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে শক্তিশালী হবে না, বরং সমুদ্রপথে কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।

এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উচ্চ মানের প্রযুক্তি সরবরাহ করবে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বমানের পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরি করতে সক্ষম হবে, যা প্রতিরক্ষা ও সমুদ্রনিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, অস্ট্রেলিয়ার এই সাবমেরিন নির্মাণ প্রকল্প দেশটির প্রতিরক্ষা নীতি, অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার জন্য এক বিরাট পরিবর্তন আনছে। এটি শুধু সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে না, বরং দেশটির কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি শিক্ষার মান এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত প্রভাবও দৃঢ় করছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত