নাভালনিকে ব্যাঙের বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছে রাশিয়া

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬ বার
নাভালনিকে ব্যাঙের বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছে রাশিয়া

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা আলেক্সেই নাভালনির মৃত্যু রহস্যের পর দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ক্রেমলিনকে দায়ী করেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নাভালনিকে হত্যা করতে ব্যবহৃত হয়েছে ব্যাঙ থেকে উৎপন্ন বিরল ধরনের বিষ, যা ‘এপিবাটিডিন’ নামে পরিচিত। এই বিষ তার শরীরে উপস্থিত হওয়া নিয়ে রাশিয়ার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য দেশ দাবি করেছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেছেন, “নাভালনি যখন কারাবন্দি ছিলেন, তখন এই বিষ প্রয়োগের সক্ষমতা, উদ্দেশ্য ও সুযোগ কেবল রুশ সরকারেরই ছিল। এপিবাটিডিনের মতো প্রাণঘাতী উপাদান তার দেহে কিভাবে এসেছে, তা ব্যাখ্যা করা হয়নি।” তিনি আরো বলেন, “এই বিষের উপস্থিতি কোনো প্রাকৃতিক বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে সম্ভব নয়। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যার প্রমাণ।”

এ বিষয়ে সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস যৌথ বিবৃতি দিয়ে একই অভিযোগ উত্থাপন করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সাইবেরিয়ার দণ্ডশিবিরে বন্দি অবস্থায় নাভালনিকে লক্ষ্য করে এই বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে আমরা রাশিয়াকেই দায়ী করি।” যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এপিবাটিডিন দক্ষিণ আমেরিকার বুনো ডার্ট ফ্রগে স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায়, কিন্তু সাইবেরিয়া বা রাশিয়ার পরিবেশে এটি স্বাভাবিকভাবে নেই। এছাড়া বন্দি অবস্থায় থাকা ব্যাঙ এমন বিষ উৎপাদন করতে পারে না। তাই নাভালনির দেহে বিষের উপস্থিতি কোনো প্রাকৃতিক ব্যাখ্যার দ্বারা বোঝানো সম্ভব নয়।

নাভালনির মৃত্যুর এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। মস্কো সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে জানিয়েছে, “রাশিয়া এই অভিযোগ স্বীকার করে না এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তবে পশ্চিমা দেশগুলোর যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র রাশিয়ার সরকারের হাতে এই ধরনের বিষ প্রয়োগের সক্ষমতা, সুযোগ এবং উদ্দেশ্য ছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের বিষ ব্যবহার করে হত্যার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক নীতি ও মানবাধিকার উল্লঙ্ঘনের সবচেয়ে মারাত্মক উদাহরণ। আলেক্সেই নাভালনি শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি রাশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কারে স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতি দমন প্রচেষ্টার জন্য পরিচিত ছিলেন। তার হত্যা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে করা হলে, এটি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিপীড়ন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে নীতিমালা লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে।

নাভালনির মৃত্যু এবং বিষ প্রয়োগের বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের হত্যা কৌশল মূলত রাজনৈতিক বিরোধীদের চুপ করানোর একটি ব্যথাপূর্ণ প্রক্রিয়া। এছাড়া এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর যৌথ প্রতিবেদন এবং যুক্তরাজ্যের স্পষ্ট অবস্থান, নাভালনির মৃত্যুর পেছনে রাশিয়ার সরকারের দৃষ্টান্তমূলক দায়কে তুলে ধরেছে।

নাভালনির দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণে এপিবাটিডিনের উপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি এমন একটি বিষ যা শুধুমাত্র অত্যন্ত সীমিত উৎস থেকে পাওয়া যায় এবং সাধারণ বা প্রাকৃতিকভাবে কোনো দেশের পরিবেশে তৈরি হয় না। ফলে বিষয়টি একটি পরিকল্পিত হত্যা ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত প্রদান করছে।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধীদের উপর এ ধরনের হত্যার ঘটনা শুধু রাশিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক হুমকি ও সন্ত্রাসের উদাহরণ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। নাভালনির হত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন।

এ ঘটনাটি রাশিয়ার রাজনৈতিক বিরোধীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। নাভালনির মৃত্যু এবং বিষ প্রয়োগের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক ও নিন্দার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর যৌথ প্রতিবেদন ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক চাপ ক্রেমলিনের ওপর বৃদ্ধি পেতে পারে।

সংক্ষেপে বলা যায়, আলেক্সেই নাভালনির মৃত্যুর বিষয়টি কেবল রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় হত্যার দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাজ্য, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস স্পষ্টভাবে রাশিয়াকে দায়ী করেছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে নাভালনির হত্যাকে এক পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় হত্যার ঘটনা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

নাভালনির মৃত্যু এবং বিষ প্রয়োগের তদন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরকাড়া একটি ঘটনা। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইন অঙ্গনে প্রভাব পড়তে পারে এবং রাশিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত