প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়, পূর্বের বরাবরের মতো বঙ্গভবনে নয়। আগামী মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশের নবনির্বাচিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়ের সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এর আগে, একই দিনে সকালেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করাবেন।
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের আয়োজনকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতিমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার অতিথি অংশগ্রহণ করবেন। শপথ নিতে আসা অতিথিদের জন্য গাড়ি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রস্তুতিমূলক সভা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অতিথিদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করেছে। জাতীয় সংসদের ২৯৭টি আসনে নির্বাচিতদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নতুন মন্ত্রিসভার ভূমিকার গুরুত্ব এবং দায়িত্বের পরিধি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। শপথ অনুষ্ঠান নতুন মন্ত্রিসভার জন্য শুধু আনুষ্ঠানিকতার সূচনা নয়, বরং দেশের গঠনমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেও বিবেচিত হবে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিশেষভাবে আয়োজন করা হয়েছে। এটি দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন কেবল অনুষ্ঠানিক স্থানান্তর নয়, বরং এটি নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পালনের প্রতীকী সূচনা। স্থানান্তরিত অনুষ্ঠানস্থল নতুন মন্ত্রিসভার কর্মপরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়বদ্ধ হওয়ার ইঙ্গিতও বহন করছে।
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান কেবল রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনার সূচনা নয়, এটি দেশের জনগণের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নবনির্বাচিত মন্ত্রীরা শপথের মাধ্যমে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবেন দেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের কল্যাণ এবং আইন অনুযায়ী সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে। শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যে আনুষ্ঠানিকতা, প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা দেশের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই অনুষ্ঠান হওয়া দেশের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কার্যপ্রণালিতে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে। এটি মন্ত্রিসভার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, আনুষ্ঠানিকতা এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কারের প্রাথমিক প্রতীক হিসেবে দেখা যেতে পারে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
সংক্ষেপে বলা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান কেবল আনুষ্ঠানিকতার মাত্রা নয়, বরং এটি দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত শপথ অনুষ্ঠান দেশের জন্য উদাহরণস্বরূপ রাজনৈতিক সংস্কার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রতীক হয়ে থাকবে।