সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় গৃহবধূ নিহত, সড়ক অবরোধে উত্তেজনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় গৃহবধূ নিহত, সড়ক অবরোধে উত্তেজনা

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিরাজগঞ্জ শহরের বিয়ারাঘাট এলাকায় রবিবার সকাল ৯টার দিকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ বছর বয়সী গৃহবধূ আঁখি খাতুন নিহত হয়েছেন। নিহত আঁখি খাতুন শহরের জুবলী রোডে অবস্থিত ফুড কেয়ার হোটেলের স্বত্বাধিকারী ফারুক হোসেনের স্ত্রী। স্থানীয়দের মতে, দুর্ঘটনাটি ভোরের সময় ঘটে, যখন তিনি মাদরাসা থেকে মেয়েকে রেখে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় ঢাকাগামী এস আই পরিবহনের একটি বাস তার ওপর চাপা দেয়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করেন। তারা গাড়ি থামিয়ে ধরতে চেষ্টা করেন এবং যান চলাচল বন্ধ রাখার মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রতি তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মালশাপাড়া-মুলিবাড়ি আঞ্চলিক সড়ক একাধিক ঘন্টা বন্ধ থাকে, যা শহরের যানবাহন চলাচলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। স্থানীয় ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরোধ প্রত্যাহার করানো হয়।

ঘটনার পর যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশ ঢাকাগামী বাস এবং চালককে আটক করে। আটক চালকের নাম আশরাফুল ইসলাম আশা, তিনি শহরের সয়াধানগড়া মহল্লার বাসিন্দা। পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

নিহতের পরিবার জানায়, আঁখি খাতুন প্রতিদিন ভোরে মেয়েকে মাদরাসায় রেখে বাড়ি ফিরতেন। ওই সকালেও তিনি সেই রুটে ছিলেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, ভোরের অন্ধকার ও যানজটের কারণে বাসের চালক গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন। এতে করুণ পরিণতি ঘটে। নিহতের স্বামী ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তার স্ত্রী ছিলেন খুবই দায়িত্বশীল এবং পরিবারকে নিয়ে তিনি সবসময় সতর্ক থাকতেন।

স্থানীয়রা জানায়, শহরে দ্রুত গতিতে চলাচল করা বাণিজ্যিক যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনার হার বাড়ছে। তাদের মতে, সড়ক নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মানা প্রয়োজন। বিশেষ করে মাদকাসক্ত বা অবাধ্য চালকদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রশাসনকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পথচারীরা বলেন, বাস-লরি চালকের অসাবধানতায় সাধারণ মানুষদের জীবন হুমকির মুখে পড়ে।

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গরম প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই নিহত আঁখি খাতুনের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যারা এই দুর্ঘটনায় দায়ী, তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন অনেকেই।

সিরাজগঞ্জের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, শুধু প্রশাসনই নয়, শহরের বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে হবে। তারা বলেন, যাত্রী এবং পথচারীদের নিজেদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। শহরের স্কুল, কলেজ এবং মাদরাসার পাশে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, কারণ শিশু ও নারী পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

এ দুর্ঘটনা প্রমাণ করে, শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দ্রুত গতিতে চলাচলকারী যানবাহনের কারণে সাধারণ মানুষদের জীবন ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে ভোর বা অন্ধকারে স্কুল, মাদরাসা বা বাজারের পথগুলোতে চলাচলরত নারী ও শিশুদের জন্য এটি একটি গুরুতর সমস্যা।

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনা তাদের পরিবারের জন্য এক অমর্যাদাকর এবং অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়। তাঁরা আশা করেন, প্রশাসন দ্রুত এবং কার্যকরভাবে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়। একই সঙ্গে তারা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আরও সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও চেকপোস্ট স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনায় নিহত আঁখি খাতুনের স্মরণে স্থানীয়রা বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠন আয়োজন শুরু করেছেন। তারা দুর্ঘটনা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য রোড সেফটি ক্যাম্পেইন এবং সচেতনতা সভা করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। স্থানীয় স্কুল, কলেজ এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, যাতে তারা পথ চলার সময় সতর্ক থাকে।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যানবাহনের নিয়মিত তত্ত্বাবধান এবং চালকদের ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। শহরে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন ও নিরাপত্তা নির্দেশনা মানা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক পরিকল্পনা ও পাথর, রেলিং, সিগন্যাল ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় সিরাজগঞ্জবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুততম সময়ে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সিরাজগঞ্জের বাসিন্দারা নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, একটি প্রাণহানির ঘটনার মধ্য দিয়ে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া উচিত, যাতে শহরের সবাই সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত