স্পর্শিয়া স্বীকার করলেন: বিয়ে করতে ভয় পেয়েছিলাম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
স্পর্শিয়া স্বীকার করলেন: বিয়ে করতে ভয় পেয়েছিলাম

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দুই বছরের দাম্পত্য জীবনের স্মৃতি ঘেঁটে অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি ও বিয়ের অজানা দিক নিয়ে খোলামেলা বলেছেন। ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে ঘরোয়া আয়োজনে তিনি ব্যবসায়ী সৈয়দ রিফাত নাওঈদ হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে পডকাস্টে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করে স্পর্শিয়া জানান, বিয়ের আগের রাতেও তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন না।

স্পর্শিয়া জানিয়েছেন, বিয়ের আগের রাতটি তার জন্য ছিল এক অচেনা অভিজ্ঞতা। তিনি খুব নার্ভাস ছিলেন এবং নিজের মধ্যে এক ধরনের ঘোর অনুভব করছিলেন। সেই সময় তিনি সরাসরি হবু স্বামীকে জানিয়ে দেন যে, বিয়েটা করতে তিনি প্রস্তুত নন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি বিয়েটা করতে চাই না।’’ তবে নাওঈদের ধৈর্য, ইতিবাচক মনোভাব এবং শান্তিপূর্ণ আচরণ স্পর্শিয়ার মনে ভীতি কমাতে সাহায্য করে। নাওঈদ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে বিয়েটা বাধ্যতামূলক নয়, শুধু অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ছবি তুলবেন এবং আনন্দ উপভোগ করবেন।

অভিনেত্রী স্পর্শিয়া হাসি মিশিয়ে জানান, ‘‘আমি এখনো ওকে বলি, তুমি আমাকে ম্যানিপুলেট করে বিয়ে করেছ।’’ তিনি আরও জানান, পরিবারের মানসিক সমর্থনও এই পরিস্থিতিতে তার জন্য নির্ধারক ছিল। পরিবার তাকে সাহস দিয়েছে এবং বলেছে, যদি ‘কবুল’ বলতে না চান, তা বলার দরকার নেই; সবাই মিলে অনুষ্ঠানটিকে শুধু আনন্দময় ও উৎসবমুখরভাবে পালন করতে হবে। স্পর্শিয়া মনে করেন, পরিবারের এই সহানুভূতি এবং মানসিক সমর্থনের কারণে তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসার সাহস পান।

বর্তমানে স্পর্শিয়া ও নাওঈদ শান্তিপূর্ণ সংসার জীবন কাটাচ্ছেন। দুই বছরের দাম্পত্য জীবনের মধ্যে তাদের সম্পর্কের গড়নে বোঝাপড়া, সহানুভূতি ও পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্পর্শিয়া জানিয়েছেন, সংসার জীবন তাঁর জীবনে এক নতুন স্থিতি ও সুখ এনে দিয়েছে।

অর্চিতা স্পর্শিয়া ২০১১ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে অভিনয় জগতে পদার্পণ করেন। এরপর তিনি নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি শাকিব খানের সঙ্গে ‘নবাব এলএলবি’, ‘কাঠবিড়ালী’ এবং ‘আবার বসন্ত’-এর মতো আলোচিত সিনেমায় কাজ করেছেন। তার অভিনয় মেধা ও দৃঢ়তা স্পর্শিয়ার ক্যারিয়ারে বিশেষ প্রভাব ফেলেছে।

স্পর্শিয়ার মতে, ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা প্রায়ই মানুষের চরিত্র ও মনোবলকে দৃঢ় করে। বিয়ের আগে তার যে মানসিক দ্বিধা ছিল, তা পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহানুভূতি এবং পরিবারের সমর্থনের মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে স্পর্শিয়া মনে করেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে বোঝাপড়া, ধৈর্য এবং পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রথম থেকেই আমাদের সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস ও সহানুভূতি ছিল। নাওঈদের ইতিবাচক মনোভাব ও শান্তিপূর্ণ আচরণ আমার ভয় ও উদ্বেগ কমিয়ে দিয়েছে।’’ বিয়ের সময় এই ধরনের মানসিক স্থিতি একজনকে বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহস দেয়।

স্পর্শিয়ার জীবনের এই অংশটি মিডিয়াপাড়ার কাছে আগ্রহের বিষয়। তার ব্যক্তিগত অনুভূতি, ভয়, দ্বিধা এবং সম্পর্কের গঠনের গল্প দর্শক ও পাঠকদের জন্য নতুন দিক উন্মোচন করছে। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, সামাজিক ও মিডিয়া চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজস্ব সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তার মতে, সম্পর্কের মধ্যে মানসিক স্থিতি ও পরিবারের সমর্থন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্তমানে স্পর্শিয়া ও নাওঈদ একসঙ্গে সংসার জীবনের আনন্দ উপভোগ করছেন। সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় তারা একে অপরের সঙ্গে বোঝাপড়া ও সমঝোতার মাধ্যমে চলার চেষ্টা করছেন। এই দাম্পত্য জীবনের গল্প স্পর্শিয়ার ভক্তদের জন্য অনুপ্রেরণা ও মানবিক দিক থেকে শিক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে।

অবশেষে স্পর্শিয়া উল্লেখ করেছেন, তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র নিজের জীবনকে নয়, বরং অন্যদেরও বোঝার সুযোগ করে দেয় যে, সম্পর্কের মধ্যে বোঝাপড়া, ধৈর্য, এবং পরিবারের সহানুভূতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ের আগের রাতের ভয় ও দ্বিধা কাটিয়ে সংসার জীবনের সুখময় অধ্যায় শুরু করা সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত