প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সমাপ্তির পথে প্রথম দল হিসেবে সুপার এইটে জায়গা করে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রোববার নেপালের বিপক্ষে ৯ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে শাই হোপের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয়রা। এই জয় তাদের গ্রুপ পর্বে টানা তৃতীয় এবং শেষ আটের টিকিট পাকা করে দেয়। অন্যদিকে টানা তিনটি হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় জানাতে হয় নেপালকে।
রোববার ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নেপাল শুরু থেকেই সমস্যায় পড়ে। জেসন হোল্ডারের নিখুঁত বোলিংয়ের সামনে তারা ঝড়ের মধ্যে পড়েছে। মাত্র ৪৬ রানের মধ্যে দলের পাঁচজন ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যান, যার ফলে নেপালের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। কুশল ভুর্তেল মাত্র এক রান করে আউট হন। অধিনায়ক রোহিত পাওদেল ৫ এবং আসিফ শেখ ১১ রানে দলের হয়ে ব্যর্থ হন।
নেপালের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও লড়াই করে দীপেন্দ্র সিং আইরি। ষষ্ঠ উইকেটে সোমপাল কামির সঙ্গে তিনি গড়েন ৫৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি, যা এই উইকেটে নেপালের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। দীপেন্দ্র ৪৭ বল খেলে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৫৮ রান করে দলের স্কোরকে ১৩৩ রানে পৌঁছে দেন। শেষদিকে সোমপাল কামি অপরাজিত ২৫ রানে দলকে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৩ রানের সম্মানজনক পুঁজি এনে দেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য জেসন হোল্ডার চারটি উইকেট শিকার করে ম্যাচে সাফল্যের বড় অবদান রাখেন।
১৩৪ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখায়। ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ২২ রান করে নন্দন যাদবের বলে আউট হলেও দলের জয়ে তা কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। দ্বিতীয় উইকেটে শাই হোপ ও শিমরন হেটমায়ার গড়েন ৯১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। হোপ ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬১ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর হেটমায়ার ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৬ রান অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমে ১৫.২ ওভারেই লক্ষ্য অর্জন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
জেসন হোল্ডারকে ম্যাচসেরা নির্বাচিত করা হয়েছে তার কার্যকর বোলিং ও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকারের কারণে। তাঁর বোলিংয়ে নেপালের ব্যাটসম্যানরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল এবং দল শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান করতে পেরেছিল।
নেপালের ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলের ব্যাটসম্যানদের শুরুতেই অবহেলার কারণে এই হারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশেষ করে কুশল ভুর্তেল, অধিনায়ক রোহিত পাওদেল ও আসিফ শেখের ব্যর্থতা দলের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। তবে দীপেন্দ্র সিং আইরি ও সোমপাল কামি তাদের লড়াকু মনোভাবের মাধ্যমে কিছুটা সম্মান ফিরিয়েছেন।
অপর দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ এবং হোল্ডারের তোপে তাড়াহুড়ো ছাড়া দল তাদের লক্ষ্য অর্জন করে। শাই হোপ ও শিমরন হেটমায়ারের জুটি দলের জয়কে সহজ করেছে। এর ফলে ক্যারিবীয়রা সুপার এইটে পৌঁছে যায় এবং শেষ আটের প্রতিযোগিতায় নিজের অবস্থান নিশ্চিত করে।
বিশ্বকাপের এই জয়ের মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল শুধুমাত্র সুপার এইট নিশ্চিত করেই থেমে থাকে না, তারা দলের মনোবল বাড়িয়ে সামনে প্রতিযোগিতায় নিজেদের শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করেছে। নেপালের জন্য টানা তিন হারের পর বিদায়ের মধ্য দিয়ে এবার তাদের নতুন পরিকল্পনা ও দল গঠনের দিকে নজর দিতে হবে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই জয় তাদের গ্রুপের প্রতিযোগিতায় মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় করবে। একই সঙ্গে নেপালের দলকে দলগতভাবে শক্তিশালী হতে এবং ব্যাটিং ও বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতি করতে হবে।
এর ফলে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হলো। নেপালের বিদায়ের মধ্য দিয়ে গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচ ক্রিকেট প্রেমীদের মনে থাকবে একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে। আগামী রাউন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জন্যও এটি একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা।