নতুন প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন, প্রস্তুত ‘যমুনা’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬ বার
নতুন প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন, প্রস্তুত ‘যমুনা’

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাষ্ট্রক্ষমতার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের আগে একটি প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে—নতুন প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন? বহু বছর ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সরকারি বাসভবন হিসেবে পরিচিত ‘গণভবন’ এখন আর সেই পরিচয়ে নেই। সেটি রূপান্তরিত হয়েছে একটি স্মৃতিবাহী জাদুঘরে। ফলে নতুন সরকারপ্রধানের জন্য বিকল্প সরকারি বাসভবন প্রস্তুতের বিষয়টি সামনে এসেছে নতুন করে। এই বাস্তবতায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’কে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

রাজধানীর অভিজাত এলাকা হেয়ার রোড-এ অবস্থিত ‘যমুনা’ ভবন দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এই ভবনে বসবাস করতেন। এখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই ভবনকেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভবনের নিরাপত্তা, অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় এটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপযুক্ত একটি সরকারি বাসভবন।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-ই হতে পারেন দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে অবস্থানের পর দেশে ফিরে তিনি বর্তমানে রাজধানীর গুলশান এলাকায় পারিবারিক বাসভবনের কাছাকাছি একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন। তবে তিনি ব্যক্তিগত বাসভবনে থাকবেন, নাকি সরকারি বাসভবনে উঠবেন, সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করছে।

গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘যমুনা’ ভবনকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, ভবনটির অবকাঠামোগত প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন রয়েছে। এরপরও নতুন প্রধানমন্ত্রী যদি কোনো বিশেষ চাহিদা বা পরিবর্তন চান, সেটিও বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত রয়েছে কর্তৃপক্ষ। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সরকার নতুন প্রধানমন্ত্রীকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরাপদ বাসভবন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

একসময় দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সরকারি বাসভবন হিসেবে পরিচিত ছিল গণভবন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এটি ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন। গণভবন আর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে ‘যমুনা’কে বেছে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে এর আগে সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন তৈরির একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক বিবেচনায় সেই সিদ্ধান্ত পরে বাতিল করা হয়। কারণ সংসদ অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সংসদ ভবনের খুব কাছাকাছি থাকলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবন নিয়েও প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার। রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত এই বাসভবন দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী দলীয় নেতার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। অতীতে এই ভবনে বসবাস করেছেন শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া। তবে গত দুই দশকে কোনো বিরোধী দলীয় নেতা সেখানে ওঠেননি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আবারও সেই বাসভবনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিরোধী দলীয় নেতা যদি সরকারি বাসভবনে উঠতে চান, তবে তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে কিছু রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার না করার ঘোষণা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন শুধু একটি থাকার জায়গা নয়, এটি রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখান থেকেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফলে এই বাসভবনের নিরাপত্তা, অবস্থান এবং অবকাঠামোগত সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পছন্দ এবং রাজনৈতিক বার্তাও অনেক সময় বাসভবন নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। কেউ কেউ ব্যক্তিগত স্মৃতির কারণে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় থাকতে পছন্দ করেন, আবার কেউ রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য সরকারি বাসভবনকেই বেছে নেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘যমুনা’ ভবন প্রস্তুত থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা করা হয়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। কারণ এটি শুধু একটি বাসভবনের প্রশ্ন নয়, এটি একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের প্রতীক।

রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ব্যবহারেও পরিবর্তন আসে। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন প্রস্তুতের বিষয়টি এখন দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

আগামী দিনগুলোতে নতুন প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলে এই আলোচনা আরও পরিষ্কার হবে। তবে আপাতত ‘যমুনা’ ভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা দেশের নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত