কোলেস্টেরল কমাতে ডায়েটে রাখুন এসব খাবার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ বার
কোলেস্টেরল কমাতে ডায়েটে রাখুন এসব খাবার

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব—এই তিনটি বিষয় আজকাল মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমা হওয়া এখন একটি সাধারণ কিন্তু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা নীরবে শরীরের ভেতরে নানা জটিল রোগের ভিত্তি তৈরি করে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপসহ একাধিক প্রাণঘাতী অসুস্থতার পেছনে এই অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কোলেস্টেরল নিজে সবসময় ক্ষতিকর নয়। শরীরের জন্য কিছু কোলেস্টেরল প্রয়োজন, কারণ এটি কোষের গঠন, হরমোন তৈরি এবং হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় জমা হতে শুরু করে। এটি রক্তনালীর দেয়ালে জমে ধীরে ধীরে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত করে এবং এক সময় হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এই সময়-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে ওষুধ ছাড়াই অনেক ক্ষেত্রে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষ করে কিছু প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে তা শরীরের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের শুরুতে ওটমিল খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ওটমিলে রয়েছে দ্রবণীয় ফাইবার, যা রক্তে কোলেস্টেরলের শোষণ কমাতে সাহায্য করে। এই ফাইবার অন্ত্রে একটি জেলির মতো স্তর তৈরি করে, যা কোলেস্টেরলকে শরীরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ফলে নিয়মিত ওটমিল খেলে ধীরে ধীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে আসে।

একইভাবে বাদাম এবং আখরোটও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। এতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। প্রতিদিন অল্প পরিমাণ বাদাম খাওয়ার অভ্যাস শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।

ফলমূল এবং সবজির গুরুত্বও এ ক্ষেত্রে অপরিসীম। বিশেষ করে আপেল, কমলা, পেয়ারা, আঙুর এবং স্ট্রবেরির মতো ফলে পেকটিন নামের একটি বিশেষ উপাদান থাকে, যা কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। পেকটিন শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বের করে দিতে সাহায্য করে এবং রক্তনালী পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি সবুজ শাকসবজি, বিশেষ করে পালং শাক, শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবার, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

চর্বিযুক্ত মাছ যেমন স্যামন এবং টুনা মাছও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড কমায় এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে। নিয়মিত এসব মাছ খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

খাদ্যাভ্যাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো সাদা চালের পরিবর্তে লাল চাল এবং লাল আটার ব্যবহার বাড়ানো। লাল চাল এবং লাল আটায় রয়েছে বেশি পরিমাণ ফাইবার, যা হজমে সহায়তা করে এবং শরীরে চর্বি জমতে বাধা দেয়। এর ফলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীর সুস্থ থাকে।

চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু খাবার পরিবর্তন করলেই হবে না, এর সঙ্গে জীবনযাত্রার পরিবর্তনও জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে।

ঢাকার একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুব রহমান বলেন, “কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সচেতনতা। মানুষ যদি নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খায় এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, মানসিক চাপও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে। তাই ধ্যান, যোগব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

অনেক মানুষ মনে করেন, কোলেস্টেরল শুধু বয়স্কদের সমস্যা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও এই সমস্যা বাড়ছে। ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার এবং অলস জীবনযাত্রার কারণে কম বয়সেই অনেকের শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এটি একদিনে কমানো সম্ভব নয়। তবে ধৈর্য ধরে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে এবং জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে ধীরে ধীরে ভালো ফল পাওয়া যায়।

সচেতনতা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে এই নীরব ঘাতক থেকে মানুষকে রক্ষা করতে। তাই আজ থেকেই খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর খাবার যোগ করা এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। কারণ সুস্থ জীবনই মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত