বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর বাবর-শাহীনদের বাদ দেওয়ার দাবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৫ বার
বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর বাবর-শাহীনদের বাদ দেওয়ার দাবি

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কলম্বোর গ্যালারিতে তখনো ভারতের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস থামেনি। পাকিস্তানের পরাজয়ের হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দলে, আর সেই হতাশা যেন আরও তীব্র হয়ে উঠল সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির কণ্ঠে। পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় এই সাবেক অলরাউন্ডার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের ভূমিকা নিয়ে। বিশেষ করে বাবর আজম, শাহীন শাহ আফ্রিদি এবং শাদাব খানের মতো তারকা ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে তার মন্তব্য পাকিস্তান ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তানের এমন ভরাডুবি কেবল একটি হার নয়, বরং এটি পাকিস্তানের বিশ্বকাপ স্বপ্নের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ম্যাচের পরপরই বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়, কিন্তু আফ্রিদির মন্তব্য ছিল সবচেয়ে সরাসরি এবং কঠোর। একটি টেলিভিশন আলোচনায় তিনি বলেন, যদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার হাতে থাকত, তাহলে তিনি বাবর, শাহীন এবং শাদাব—এই তিনজনকেই একাদশ থেকে বাদ দিতেন এবং তরুণদের সুযোগ করে দিতেন।

আফ্রিদির কথায় ছিল হতাশা, কিন্তু একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরে একই খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা করা হচ্ছে, কিন্তু বড় ম্যাচে তারা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি, কারণ তাদের পারফরম্যান্সই দলের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে। কিন্তু যখন সেই সিনিয়ররাই ব্যর্থ হন, তখন দলের ভেতরে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

কলম্বোর সেই ম্যাচে ভারতের দেওয়া ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। দলের অধিনায়ক বাবর আজম মাত্র ৭ বলে ৫ রান করে আউট হন। একজন বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান হিসেবে বাবরের কাছ থেকে দলের সমর্থকরা আরও বড় কিছু আশা করেছিলেন। কিন্তু তার দ্রুত বিদায় পাকিস্তানের ইনিংসে শুরুতেই ধাক্কা দেয়।

শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিংয়েও পাকিস্তানের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। শাহীন শাহ আফ্রিদি, যিনি পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত, সেই ম্যাচে ছিলেন অস্বাভাবিকভাবে ব্যয়বহুল। তিনি মাত্র দুই ওভারে ৩১ রান দেন, যা ভারতের ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং ম্যাচের শেষ দিকে ভারতের ইনিংসকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

অন্যদিকে শাদাব খানও অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হন। বোলিংয়ে এক ওভারে ১৭ রান দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও তিনি খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি। তার ধীরগতির ১৪ রান পাকিস্তানের রান তাড়ার গতি কমিয়ে দেয় এবং দলের ওপর চাপ বাড়িয়ে তোলে।

এই পারফরম্যান্সগুলোর পর আফ্রিদি স্পষ্টভাবে বলেন, পাকিস্তানের উচিত নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া। তার মতে, বেঞ্চে থাকা তরুণ ক্রিকেটাররা দীর্ঘদিন ধরে সুযোগের অপেক্ষায় আছেন। তারা যদি মাঠে নামার সুযোগ পান, তাহলে নিজেদের প্রমাণ করার পাশাপাশি দলের ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারবেন।

পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন প্রতিভা আবিষ্কারের ক্ষেত্রে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার নজির রয়েছে। অতীতেও এমন অনেক সময় এসেছে যখন সিনিয়রদের বাদ দিয়ে তরুণদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্তই পরে দলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। আফ্রিদি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক সমর্থক আফ্রিদির সঙ্গে একমত হয়ে বলেছেন, দলের পুনর্গঠনের জন্য এখনই সঠিক সময়। আবার কেউ কেউ মনে করেন, কয়েকটি খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না এবং সিনিয়র খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখা উচিত।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—পাকিস্তান ক্রিকেট এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে রয়েছে অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে রয়েছে নতুন সম্ভাবনা। এই দুইয়ের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারলেই দল আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ, আর প্রতিটি পারফরম্যান্সই ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। বাবর, শাহীন এবং শাদাবের মতো খেলোয়াড়রা পাকিস্তানের জন্য অতীতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কিন্তু বর্তমান ফর্ম এবং দলের প্রয়োজন বিবেচনা করে ভবিষ্যতের জন্য নতুন পরিকল্পনা করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন দল ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তের জন্য। তারা দেখতে চান, দল কি অভিজ্ঞদের ওপরই ভরসা রাখবে, নাকি নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাবে। আফ্রিদির মন্তব্য সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে সবাইকে।

ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এটি একটি আবেগ। আর সেই আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কোটি মানুষের আশা। পাকিস্তানের সমর্থকরাও এখন সেই আশার আলো খুঁজছেন—যে আলো তাদের আবার জয়ের পথে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত