দীর্ঘ স্ক্রিন টাইমে চোখে আরাম, এই তিন ব্যায়ামে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
দীর্ঘ স্ক্রিন টাইমে চোখে আরাম, এই তিন ব্যায়ামে

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বর্তমান যুগে মোবাইল, ল্যাপটপ এবং ট্যাবের ব্যবহার প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে বিনোদন, সামাজিক যোগাযোগ এবং গেমিং—সবকিছুই এখন স্ক্রিনের মাধ্যমে হচ্ছে। এমন অবস্থায় দীর্ঘসময় ধরে স্ক্রিনের দিকে চোখ রাখার ফলে চোখের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা চোখের ক্লান্তি, জ্বালা, ব্যথা ও চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও অফিসে দীর্ঘ সময় কাজ করা কর্মীদের মধ্যে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়।

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা মনে করান, স্ক্রিন টাইমের কারণে চোখে যে চাপ তৈরি হয় তা নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে কমানো সম্ভব। চোখের পেশি ও স্নায়ুগুলো শিথিল করতে ব্যায়ামগুলো সাহায্য করে এবং দীর্ঘসময় চোখ ব্যবহার করার পর আরাম দেয়। চোখের এই ব্যায়ামগুলোকে সহজ, কিন্তু কার্যকর বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।

প্রথম ব্যায়ামটি খুবই সহজ, তবে চোখে অব্যাহত চাপ কমাতে কার্যকর। দুই হাতের তালুকে ঘষে গরম করে চোখের উপরে রাখা হয়। এই সময় মেরুদণ্ড সোজা করে বসা আবশ্যক। গরম তালু চোখের ওপর রাখার সময় চোখের মণির ওপর সরাসরি চাপ পড়বে না, বরং আলতো স্পর্শ করতে হবে। দীর্ঘশ্বাস নিয়ে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার প্রক্রিয়া চোখের পেশি শিথিল করতে সহায়ক। দুই মিনিট এই ব্যায়াম করার পর হাত সরিয়ে আস্তে আস্তে চোখ খোলা উচিত। এটি চোখের ক্লান্তি কমাতে এবং চোখকে আরাম দিতে সহায়ক।

দ্বিতীয় ব্যায়ামটি চোখের ফোকাস পরিবর্তন করার ওপর ভিত্তি করে। এটি “নজর ঘুরানো” ব্যায়াম হিসেবে পরিচিত। প্রথমে একটি বুড়ো আঙুল চোখের সামনে প্রায় দশ ইঞ্চি দূরে ধরে মনোযোগ দিয়ে তাকাতে হয়। কিছু সেকেন্ডের জন্য চোখ আঙুলের দিকে স্থির রাখা পরে, দৃষ্টি সরিয়ে প্রায় ১০ থেকে ২০ ফুট দূরে থাকা কোনো বস্তুর দিকে তাকানো হয়। এই ক্রিয়া পর্যায়ক্রমে পাঁচ থেকে ছয় বার পুনরায় করা উচিত। এটি চোখের ফোকাস ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দূরবীণ ও নিকটবীণ দৃষ্টি সামঞ্জস্য করতে সহায়ক এবং চোখের ক্লান্তি কমায়।

তৃতীয় ব্যায়ামে চোখকে সবদিকে আন্দোলন করানো হয়। একটি পেন্সিল বা কলম হাতে নিয়ে সেটি নাকের সামনে এক হাত দূরত্বে ধরে চোখের এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে হবে। মাথা স্থির রেখে পেন্সিলটি ধীরে ধীরে ডানে-বামে এবং পরে উপরে-নিচে সরানো হয়। চোখকে সর্বদা পেন্সিলের দিকে ফোকাস রাখতে হবে। এরপর পেন্সিলকে ধীরে ধীরে নাকের কাছে আনা ও দূরে সরানো হয়। এই ব্যায়াম চোখের পেশি শক্তিশালী করে এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করার পর চোখকে পুনরায় সতেজ করে তোলে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, এই তিনটি ব্যায়াম নিয়মিত করলে স্ক্রিনের কারণে চোখের প্রদাহ, জ্বালা ও ক্লান্তি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার, মোবাইল বা ট্যাব ব্যবহার করে, তাদের চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়ামগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়ামগুলোর সময় অল্প কয়েক মিনিট হলেও, নিয়মিত অভ্যাস চোখকে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ রাখে।

তদুপরি, চোখের ক্লান্তি কমাতে পর্যাপ্ত ঘুম, যথাযথ আলো ব্যবহার, স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ও কন্ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ, পাশাপাশি ২০-২০-২০ নিয়ম—প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ড চোখ স্ক্রিন থেকে সরিয়ে ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুতে তাকানো—ও কার্যকরী। তবে ব্যায়ামের মাধ্যমে চোখের চাপ কমানো ছাড়াও, চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া এবং নিয়মিত চক্ষুপরীক্ষা করানো অপরিহার্য।

বর্তমানে ডিজিটাল যুগে চোখের যত্নকে গুরুত্ব না দিলে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চোখের লালচে ভাব, দীর্ঘ সময় চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া, বা ঘনঘন মাথা ব্যথা হলে সঙ্গে সঙ্গে চক্ষু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া স্ক্রিন ব্যবহার কমানো বা বিরতিতে চোখের ব্যায়াম করা দীর্ঘমেয়াদে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অনিবার্য।

তাই, যারা দৈনিক জীবনে ঘন্টাখানিক স্ক্রিনে কাজ করেন, তাদের জন্য এই তিনটি ব্যায়াম শুধু আরাম নয়, বরং চোখের স্বাস্থ্য রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্ক্রিনে চোখ রাখার পরে কয়েক মিনিট ব্যায়াম চোখকে সতেজ রাখে, ক্লান্তি দূর করে এবং চোখের পেশি ও স্নায়ু শিথিল করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত