ব্যবসার উদ্দেশ্য ছাড়া জমিতে জাকাত দেওয়া লাগবে না

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার
ব্যবসার উদ্দেশ্য ছাড়া জমিতে জাকাত দেওয়া লাগবে না

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইসলামী শরিয়াহে জাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন, যা মুসলমানদের সম্পদ শুদ্ধ ও সমাজে দারিদ্র্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যে বিতরণের জন্য বাধ্যতামূলক। তবে জাকাতের বিধান ও হিসাব নির্ভর করে সম্পদের প্রকৃতি ও ব্যবহারভিত্তির ওপর। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে, যেখানে একজন পাঠক জানতে চেয়েছেন, ব্যবসার উদ্দেশ্য ছাড়া ক্রয়কৃত জমির ওপর জাকাত আদায় করা প্রয়োজন কিনা।

ঢাকা শহরে বসবাসকারী মিনহাজ নামের পাঠক উল্লেখ করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে টাকা জমিয়ে গ্রামে বাড়ি নির্মাণের জন্য ছয় লাখ টাকার জমি ক্রয় করেছেন। তার অন্যান্য কোনো সম্পদ নেই। অতীতে তিনি তাঁর সঞ্চিত টাকার ওপর নিয়মিত জাকাত প্রদান করেছেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে, ব্যবসার উদ্দেশ্য ছাড়া ক্রয়কৃত এই জমির ওপর কি জাকাত আদায় করতে হবে?

এ প্রসঙ্গে ইসলামী জ্ঞানপণ্ডিতদের পরামর্শ অনুযায়ী, ব্যবসার উদ্দেশ্য ছাড়া ক্রয়কৃত জমির ওপর জাকাত ফরজ নয়। অর্থাৎ, যদি কোনো ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য, ভবিষ্যতে বসবাস বা পরিবারের প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে জমি ক্রয় করে, তবে সেই সম্পদ জাকাতের আওতায় আসে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাকাত মূলত ব্যবসায়িক সম্পদ, সঞ্চয়, স্বর্ণ-রূপা, কৃষিজাত ও পশুপালনসহ আয়করযোগ্য সম্পদের ওপর ফরজ।

ইসলামী সাহাবাদের উদাহরণ অনুসারে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বর্ণনা করেছেন যে, ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত সম্পদ ছাড়া অন্য কোনো বস্তুর ওপর জাকাত ফরজ নয়। তিনি বলেন, “لَيْسَ فِي الْعُرُوضِ زَكَاةٌ، إِلاَّ عُرْضٍ فِي تِجَارَةٍ، فَإِنَّ فِيهِ زَكَاةً।” এর অর্থ, কোনো বস্তুর ওপর জাকাত আসে না যদি তা ব্যবসার জন্য ক্রয় করা না হয়; ব্যবসার জন্য হলে জাকাত ফরজ। এটি মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১০৫৬০-এ উল্লেখিত।

ইসলামী ফিকহের গ্রন্থে আরও বর্ণনা আছে, আলহাবিল কুদসী এবং আলমুহীতুর রাযাবীসহ বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যবসার উদ্দেশ্য ছাড়া ক্রয়কৃত ভূমি, বাড়ি বা অন্য কোনো স্থাবর সম্পদ জাকাতের আওতায় আসে না। মাজমাউল আনহুর ও রদ্দুল মুহতারেও এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। তাই ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য যেকোনো জমি বা সম্পদ ক্রয় করলে, তার ওপর জাকাত দিতে হয় না।

চলমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ব্যক্তিগত সম্পদের ব্যবস্থাপনাকে বিবেচনা করে ইসলামী বিশেষজ্ঞরা মুসলমানদের জন্য পরামর্শ দেন, যে তারা যে সম্পদগুলোর ওপর জাকাত ফরজ, তার হিসাব রাখা ও নিয়মিত প্রদান নিশ্চিত করবেন। এতে ব্যক্তি অর্থনৈতিকভাবে সচেতন থাকে এবং সমাজে দারিদ্র্য ও অসহায়দের প্রতি সহানুভূতি বৃদ্ধি পায়।

এই প্রেক্ষাপটে মিনহাজের উদাহরণ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে প্রমাণ করে যে, দীর্ঘদিনের সঞ্চয় থেকে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত জমির ওপর জাকাত আদায় করা প্রয়োজন নেই। তবে ব্যবসার জন্য ক্রয়কৃত জমি বা সম্পদ, উৎপাদনশীল সম্পদ, বা বিক্রয়যোগ্য পণ্য ও সঞ্চয়িত অর্থের ওপর নিয়মিত জাকাত প্রদান আবশ্যক।

ফলে, ইসলামী অর্থনীতি ও শারীরিক দিক থেকে জাকাত মুসলিম সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব। এটি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপায় নয়, বরং দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসে সহায়ক। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য জমি বা বাড়ি ক্রয় করলে তা জাকাতের আওতায় আসে না, তাই মিনহাজের জমির ক্ষেত্রে কোনো জাকাত আদায় করতে হবে না।

এই নীতির মাধ্যমে মুসলিমরা সহজেই নিজেদের সম্পদের ধরন অনুযায়ী জাকাত প্রদান নিশ্চিত করতে পারে এবং সামাজিক দায়িত্বও পালন করতে পারে। ইসলামী তত্ত্ব অনুযায়ী, ব্যবসার উদ্দেশ্য ছাড়া ক্রয়কৃত সম্পদ ব্যক্তিগত বা আবাসিক ব্যবহারের জন্য হলে তা জাকাতের আওতায় আসে না। এ ধরনের জ্ঞান মুসলিম সমাজে অর্থনৈতিক সচেতনতা ও ন্যায্য বিতরণের একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত