বিএনপির ভূমিধস জয়ের পেছনে অর্থনৈতিক ক্যাম্পেইন প্রভাব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
বিএনপি ভূমিধস বিজয় কারণ

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পেছনে মূল প্রভাবশালী কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রণোদনার মতো ভোটার-কেন্দ্রিক ক্যাম্পেইন। ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত জরিপ ও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ধরনের অর্থনৈতিক উদ্যোগ বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোটারদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে, জামায়াতের আদর্শিক ও ধর্মীয় ভিত্তিক প্রচারণা ভোটারদের বিশেষ করে নারী ভোটারদের কাছে তেমন প্রভাব রাখতে সক্ষম হয়নি।

রোববার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাইয়াত সারওয়ার এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ভোটাররা এখন বাস্তব সমস্যা ও দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে সংযুক্ত বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সুবিধা ভোটারদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে, যা ভোটের সিদ্ধান্তে প্রধান ভূমিকা রাখে।’

আলোচনা অনুষ্ঠানে ভয়েস ফর রিফর্মের সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনের ধীরগতি এবং কোন দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে তা জানাতে দেরি করা দোষারোপযোগ্য। এই দেরি জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে এবং ভোটের ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তিনি মনে করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও মনোভাবকে সুচারু জরিপের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনে আরো কার্যকরী প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে, ইসির জনসংযোগ শাখা রোববার জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৪৯.৯৭ শতাংশ এবং জামায়াত ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বিএনপি জোট ২১২ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এই ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং জোট শরিকদের সঙ্গে মিলিয়ে আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২। এই ‘ভূমিধস’ বিজয় দলের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

ভোটের ফলাফলের আলোকে বিশেষভাবে দেখা যায়, নারী ও তরুণ ভোটাররা অর্থনৈতিক সুবিধা ও সেবার প্রতিশ্রুতি যুক্ত প্রচারণার প্রতি বেশি সংবেদনশীল। ইনোভেশন কনসাল্টিং-এর বিশ্লেষণে বলা হয়, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দলগুলোকে নারী ও তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার ওপর জোর দিতে হবে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আদর্শিক ও ধর্মীয় ভিত্তিক প্রচারণা একার পক্ষে নির্বাচন জিতানো কঠিন।

এ নির্বাচনে বিএনপির প্রাপ্ত বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘ দেড় দশক পর এই ‘ভূমিধস’ বিজয় দলটির কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। দলীয় পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ক্যাম্পেইন এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা প্রতিফলিত করা মূলভাবে বিএনপির জয় নিশ্চিত করেছে।

তাদের ঐতিহাসিক জয়ের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এক অভিনন্দন বার্তায় বলেন, ‘আপনার নেতৃত্বে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আপনাকে আন্তরিক মোবারকবাদ। গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের স্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’

সংবাদ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনে অর্থনৈতিক ক্যাম্পেইন ও জনমুখী উদ্যোগই মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখানো জনগণের রায় ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশল ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শিক্ষণীয় বিষয় হলো, ভোটারদের দৈনন্দিন জীবন ও প্রয়োজনের সঙ্গে সংযুক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করাই সবচেয়ে কার্যকর নির্বাচনী কৌশল।

ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চিত্রে এই ধরনের অর্থনৈতিক ও সেবামুখী ক্যাম্পেইন ভোটারদের আস্থা অর্জনের মূল উপাদান হিসেবে স্থায়ী হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই ধারা এবং জনগণের স্পষ্ট রায় দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত