প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ের পর নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয়। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। তবে শপথের আগে রাজনৈতিক মহল, বিশ্লেষক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল এবং আলোচনা চলছে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা ও সেখানে তরুণ ও সিনিয়র নেতাদের স্থান নিয়ে।
দলীয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভা গঠনে প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয় বজায় রাখতে চান। এই নীতি অনুসারে পুরোনো ও অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি নতুন মুখদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ বিষয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতারা প্রতিনিয়ত বৈঠক করছেন, সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা পর্যালোচনা করছেন এবং দেশের অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও শুভাকাঙ্খীদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করছেন। দলের লক্ষ্য এককভাবে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা নয়, বরং প্রশাসনিক দক্ষতা ও জনমুখী ভাবমূর্তিও বজায় রাখা। বিশেষ করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তরুণ নেতাদের মধ্যে আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ড. হুমায়ুন কবির, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান, ড. মাহদী আমিন, ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবীন, ড. রেজা কিবরিয়া, সাঈদ আল নোমান এবং খন্দকার আবু আশফাক। এরা সকলেই সম্ভাব্য মন্ত্রিপরিষদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন।
সিনিয়র নেতাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন বিএনপির ২০০১-২০০৬ সালের সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রীরা এবং মাঠের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নেতারা। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি বা উপরাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হতে পারে। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্যরা—ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নাল আবেদীন ফারুক, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ইসমাঈল জবিউল্লাহ, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় শুধু দলের অভিজ্ঞ নেতাদের অন্তর্ভুক্তি নয়, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদেরও স্থান দেওয়া হবে। বিএনপি আগে থেকেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদারদের সঙ্গে জাতীয় সরকারের প্রস্তুতি নিয়েছিল। ফলে নতুন মন্ত্রিসভায় এই নেতাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে। গণসংসহি আন্দোলনের আহ্বায়ক জোনায়েদ সাকি, বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরু, টেকনোক্র্যাট কোটায় ১২ দলীয় জোট প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার নামও আলোচনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন মন্ত্রিসভা ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি জনমুখী ও প্রশাসনিক দক্ষতার প্রতীক হবে। নতুন সরকারের প্রথম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরীক্ষা হবে মন্ত্রিসভা গঠন। দেশের অভিজ্ঞতা ও জনমুখী নেতৃত্বের সমন্বয়কে কাজে লাগিয়ে সরকারের লক্ষ্য হবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ।
দলীয় নেতারা বলেছেন, বিতর্কিত বা জনসমালোচিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এড়িয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের চেষ্টা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী একটি কার্যকর ও বার্তাবাহী মন্ত্রিসভা চান। শুধু রাজনৈতিক সমীকরণ নয়, বাস্তবে কাজ করতে সক্ষম এমন নেতাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ফলে সরকারের প্রথম দিন থেকেই শক্ত বার্তা দিতে সক্ষম একটি মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। জনগণ, বিশ্লেষক এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা নতুন মন্ত্রিসভার গঠনকে সরকারের প্রাথমিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন। মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে সরকার কেবল প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদর্শন করবে না, বরং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নবোদ্যম ও জনগণের আস্থাও পুনঃস্থাপন করবে।