প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে তার পরিবার সাম্প্রতিক সময়ে আশার কিছু খবর দিয়েছে। খানের বোন নওরীন খানম জানিয়েছেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত সর্বশেষ রিপোর্টে দেখা গেছে, তার চোখের চারপাশের ফোলাভাব কিছুটা কমেছে এবং দৃষ্টিশক্তি কিছুটা উন্নতির দিকে রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইমরানের চোখের সমস্যা এখনও পুরোপুরি সমাধান হয়নি। তাই তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছভাবে চিকিৎসা পরিচালনার অনুরোধ জানিয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইমরান খানের দাবি ছিল, তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মাত্র ১৫ শতাংশ অবশিষ্ট। এ বক্তব্যের পর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে পরীক্ষা করার জন্য একটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দেয়। খানের পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, রোববার তার চোখের পরীক্ষা হয়েছে এবং এখনও কোনো বড় জটিলতা দেখা যায়নি।
এর আগে শনিবার পাকিস্তান সরকার জানিয়েছিল যে ইমরান খানকে শিগগিরই হাসপাতালে নেওয়া হবে। তবে সরকারি ঘোষণার পরও তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন। পার্লামেন্ট হাউস, পার্লামেন্ট লজ এবং খাইবার পাখতুনখোয়া হাউসের ভেতর পিটিআই সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা বিক্ষোভ চালাচ্ছেন। তাদের দাবি ইমরান খানকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হোক এবং তার চিকিৎসা নিরাপদ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হোক।
চিকিৎসাবিদ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার দৃষ্টিশক্তি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সরাসরি প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে পিটিআই সমর্থকরা ইমরানের স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা নিরাপত্তার বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
পরিবারের পক্ষ থেকে এই সতর্ক বার্তাটি আসায় চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জোরালো হয়েছে। নওরীন খানম বলেন, “আমরা সবাই চাই, তার চিকিৎসা যেন নিয়মিতভাবে হয় এবং কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা হয়।” পাশাপাশি তিনি আশাবাদী যে, ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে সঠিক চিকিৎসা হলে তার দৃষ্টিশক্তি আরও ভালো হতে পারে।
এই সময়ে পিটিআই সমর্থিত নেতারা পার্লামেন্টে অবস্থান ধর্মঘট চালাচ্ছেন এবং সরকারের সঙ্গে তাদের অবস্থান, প্রতিশ্রুতি ও চিকিৎসার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও এই ধরনের কার্যক্রম ইমরান খানের চিকিৎসা ও তার নিরাপত্তার বিষয়কে আন্তর্জাতিকভাবে নজরে আনার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চোখের ফোলাভাব কমে আসা একটি ইতিবাচক লক্ষণ হলেও সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত চিকিৎসা অপরিহার্য। তাই ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক দল অব্যাহতভাবে তার স্বাস্থ্যের উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা জানিয়েছেন, চোখের অবস্থা এখন স্থিতিশীল, তবে পুরোপুরি নির্দিষ্ট করা সম্ভব নয় কতদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্য সমস্যা পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনের ওপরও প্রভাব ফেলছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠছে। পিটিআই সমর্থকরা এই সময়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে, কারণ নেতা কারাবন্দি থাকাকালীন দলের কার্যক্রম ও নীতি নির্ধারণে যথাযথ সমন্বয় রক্ষা করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
পরিবার ও চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করছেন, সঠিক চিকিৎসা এবং পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকলে ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি আরও উন্নতি করবে। নওরীন খানম জানিয়েছেন, এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সরকার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখে, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
অবস্থান ধর্মঘট এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই ইমরান খানের চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক চাপ থেকে অব্যাহতি দেওয়া। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যে কোনো ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।
ইমরান খানের চোখের অবস্থা নিয়ে চলমান পরিস্থিতি পাকিস্তানবাসী এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও চিকিৎসা ক্ষেত্রের সব দিক বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে, তার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের উন্নতি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ভবিষ্যতের দিকে তাকালে, তার চিকিৎসা নিরাপদভাবে চলার পাশাপাশি দলীয় সমন্বয় বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।