প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জনস্বার্থে জানুয়ারি ২০২৬ মাসের করদাতাদের জন্য অনলাইন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে। সরকারের ই-ভ্যাট সিস্টেমের মাধ্যমে দাখিলের শেষ সময়সীমা এখন ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভ্যাট নিবন্ধিত সত্তাগুলো যাতে জরিমানার মুখে না পড়ে এবং নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দিতে অক্ষমতার কারণে আইনগত প্রতিকূলতায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের এক আদেশে বলা হয়েছে, পবিত্র শবেবরাত ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি ছুটির দীর্ঘ ধারার কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে। অনেক করদাতা নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হন। পাশাপাশি, ১৫ ফেব্রুয়ারি ই-চালান সিস্টেমের ওটিপি সার্ভারের সাময়িক অচলতার কারণে অনেকে অনলাইন রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিবেচনায় এনবিআর তাদের আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করে সময়সীমা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, এই সময়সীমা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তারা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪ (১এ) অনুযায়ী তাদের বিধিবদ্ধ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের জন্য জরিমানার ঝুঁকিতে পড়বেন না এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
করদাতাদের সচেতন করতে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বর্ধিত সময়সীমার সদ্ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। চূড়ান্ত সময়সীমা ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকায় তারা অনলাইনে রিটার্ন পূর্ণাঙ্গভাবে দাখিল করতে পারবেন এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে সাবমিট করতে পারবেন। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা যাদের রিটার্ন প্রক্রিয়ায় কারিগরি সমস্যা বা অন্যান্য বাধা সৃষ্টি হতে পারে, তারা এই সম্প্রসারিত সময়সীমা ব্যবহার করে ঝুঁকি এড়াতে পারবে।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে যথাযথভাবে কর বিধিমালা অনুসরণ করে এবং অনলাইন রিটার্ন সঠিকভাবে দাখিল করতে পারে, সেজন্য তারা অতিরিক্ত সময় প্রদান করেছে। নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করদাতাদের কর নির্ভুলতা ও সরকারি রাজস্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। কর্মকর্তারা বলেছেন, সময়সীমা বাড়ানোর ফলে করদাতারা নির্ধারিত দিন পর্যন্ত যে কোনও সময়ে তাদের অনলাইন রিটার্ন সাবমিট করতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনও করতে পারবেন।
বর্ধিত সময়সীমার ঘোষণা করদাতাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা যারা ছুটি ও কারিগরি সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়মতো রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, তারা এই সম্প্রসারিত সময়সীমার মাধ্যমে আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়িয়ে তাদের রিটার্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন। এছাড়া এনবিআর আশা করছে, এই উদ্যোগ ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত এবং নিয়মিত করবে, ফলে দেশের রাজস্ব সংগ্রহ প্রক্রিয়া আরও নির্ভুল হবে।
কর্মকর্তারা সকল ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে আবারও সতর্ক করেছেন, ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জানুয়ারি ২০২৬ মাসের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করতে। তারা বলেছেন, এই সুযোগের সদ্ব্যবহার না করলে পরবর্তীতে জরিমানা ও অন্যান্য আইনগত জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনা থাকবে। ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলার জন্য সময়মতো রিটার্ন দাখিল করা অপরিহার্য।
নির্ধারিত সময়সীমা প্রসারণের মাধ্যমে এনবিআর মূলত করদাতাদের জন্য সহায়ক একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এটি ব্যবসায়ীদেরকে অতিরিক্ত চাপ থেকে মুক্তি দেয়ার পাশাপাশি সরকারের জন্য নিয়মিত ও সঠিক রাজস্ব সংগ্রহ নিশ্চিত করবে। অনলাইন ই-ভ্যাট সিস্টেমের মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল করায় করদাতারা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন, কারণ তাঁরা যেকোনো সময়ে ও যেকোনো স্থান থেকে রিটার্ন সাবমিট করতে পারবেন।
সময়ের সীমিততায় রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ করদাতাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট সহায়ক। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি করদাতাদের মধ্যে সুশৃঙ্খল ও সচেতন কর প্রদানের মানসিকতা বৃদ্ধি করবে। এনবিআরের এই উদ্যোগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক দিক থেকে সহায়তা করবে এবং তাদের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
অতএব, জানুয়ারি ২০২৬ মাসের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা সম্প্রসারণ করদাতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও করদাতারা যেন সর্বোচ্চ সুবিধা গ্রহণ করেন, সেই লক্ষ্যে এনবিআর যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছে। এই প্রসারিত সময়সীমার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও করদাতাদের মধ্যে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে এবং দেশের কর ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে।