প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কোকে দেশত্যাগের সময় আটক করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অতিক্রমের মুহূর্তে তাকে ট্রেনে ধরে রাখা হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সাবেক মন্ত্রীকে ‘মিডাস’ নামের দুর্নীতি মামলার অংশ হিসেবে আটক করা হয়েছে। যদিও তিনি ঠিক কোন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তা জানা যায়নি। ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী ব্যুরো (নাবু) রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
গালুশচেঙ্কো ২০২৫ সালে জ্বালানি খাতে এক বৃহৎ অর্থপাচার চক্রের উদ্বোধনের পর পদত্যাগ করেন। তদন্তে দেখা গেছে, এই চক্র প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। এই কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত একটি বিশাল চক্রে, যার অর্থমূল্য আনুমানিক ১০০ মিলিয়ন ডলার, গালুশচেঙ্কোকে জ্বালানি খাতে অবৈধ অর্থপ্রবাহ ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। বিশেষত, এনার্জোট্যামের সঙ্গে কাজ করা ঠিকাদারদের চুক্তি বাতিল বা বিল পরিশোধে বিলম্ব এড়াতে তিনি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ঘুষ দিতে বাধ্য করেছিলেন।
গালুশচেঙ্কো সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নভেম্বরে, যখন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন, তখন তিনি বিচারমন্ত্রীর পদে ছিলেন। তার আগে তিন বছর তিনি জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। গালুশচেঙ্কোর উত্তরসূরি স্বিতলানা হ্রিঞ্চুকও একই কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত থাকার কারণে পদত্যাগ করেছিলেন।
নাবু এই গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে তারা জানিয়েছেন, যথাসময়ে প্রাসঙ্গিক আপডেট প্রদান করা হবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও ফ্রি ইউরোপ জানিয়েছে, সীমান্তরক্ষীরা গালুশচেঙ্কোকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কিয়েভে নিয়ে যাচ্ছেন।
গালুশচেঙ্কোর গ্রেপ্তারি কেবল একটি ব্যক্তির সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ইউক্রেনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও প্রতিরোধের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশটির বিশেষ দুর্নীতিবিরোধী প্রসিকিউটর দপ্তর (এসএপিও) জানিয়েছে, মূল কেলেঙ্কারির পরিকল্পনাকারী ছিলেন ব্যবসায়ী তাইমুর মিনডিচ। গালুশচেঙ্কো তার সঙ্গে সহযোগিতা করে জ্বালানি খাতে অর্থের অনিয়মিত প্রবাহের ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করেন।
২০২৫ সালে শুরু হওয়া এই তদন্তের মাধ্যমে শুধু সরকারি কর্মকর্তাদেরই নয়, বরং জ্বালানি খাতের ব্যবসায়ীদেরও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে চুক্তি বাতিল, বিল পরিশোধে বিলম্ব এড়ানো এবং ঘুষের মাধ্যমে স্বার্থসিদ্ধির চক্রান্ত অন্তর্ভুক্ত। গালুশচেঙ্কো এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সাবেক জ্বালানিমন্ত্রীর গ্রেপ্তারি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি ইউক্রেনে ক্ষমতার কেন্দ্রস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ সরকারের দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রমাণ দেয়।
এছাড়া, গালুশচেঙ্কোর আটক আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কাড়ছে। ইউক্রেনের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বচ্ছতার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই গ্রেপ্তারি দেশের নীতি প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দিকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রেরণ করছে।
মোটকথা, গালুশচেঙ্কোর গ্রেপ্তারি ইউক্রেনের দুর্নীতি দমন, বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং সরকারের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সীমান্তে তার ধরা পড়া প্রমাণ করে যে, কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হলেও দেশের আইন ও নিয়মের বাইরে থাকা সম্ভব নয়। আগামী দিনগুলোতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে এবং দেশের জনগণ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখবে।