প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মুন্সীগঞ্জে নিখোঁজের ১৯ দিন পর সাকিল খালাসী (২৪) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সদর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরের চর রমজানবেগ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের পরিবার জানায়, সাকিল মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর হায়দ্রাবাদ এলাকার শাহীন খালাসী। গত ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিজের মিশুক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরের দিন তার বাবা সদর থানায় একটি সাধারণ জিডি করেন। এরপর ১৯ দিনেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের সময় সাকিলের পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট এবং কালো জ্যাকেট। তিনি মাঝারি গড়নের, ছোট চুল এবং শ্যামলা বর্ণের ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার পর একটি প্রতারক চক্র সাকিলকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করে তাদের কাছে হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করেছিল। এতে পরিবার ও স্থানীয়রা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছিল এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে সতর্ক করেছে।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝোপঝাড়ের মধ্যে একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করে সাকিলের বলে নিশ্চিত করেন। পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, এই হত্যাকাণ্ডটি ইজিবাইক ছিনতাইকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে। হত্যার পর দুষ্কৃতকারীরা মরদেহটি ঝোপে ফেলে দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।
মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের তৎপরতায় মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া লুণ্ঠিত ইজিবাইকটিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার তিনজনের মধ্যে একজন স্বীকার করেছেন, তিনি লুণ্ঠিত অটোরিকশা ক্রয় করেছিলেন। অপর তিনজন হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানায়, নিহত সাকিলের হত্যাকাণ্ড স্থানীয় জনজীবনে ব্যাপক শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এমন নির্মম ঘটনায় তারা স্তম্ভিত। তারা দাবি করেন, যুবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরো সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত আছে। হত্যার সময় ও ধরন, নিহতের গতিবিধি এবং গ্রেফতারদের স্বীকারোক্তি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো অংশীদার থাকলে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, “প্রতিটি হত্যাকাণ্ড তদন্তের আওতায় থাকবে এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আমরা নিশ্চিত করব, এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে।”
সাকিল খালাসীর মৃত্যুর ঘটনা সমাজে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষত যুব সমাজ, পরিবার ও স্থানীয়রা এখন প্রশাসনের প্রতি আরও সচেতন ও সহায়তা প্রত্যাশী। পরিবার জানায়, তাদের সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার পাওয়া তাদের মূল দাবি।
মুন্সীগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে এমন ধরণের ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশও জানিয়েছে, ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করছে, স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী উদ্যোগ প্রয়োজন। পুলিশের অনুসন্ধান ও গ্রেফতারের পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই জনমনে সান্ত্বনা দিয়েছে। তবে পরিবারের দুঃখ ও স্থানীয় মানুষের শোক দীর্ঘদিনের জন্য প্রবল প্রভাব ফেলবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ স্থানীয় কমিউনিটি, ইজিবাইক চালক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধী আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।