নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ে বিএনপি মন্ত্রিসভা গঠিত হবে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২০ বার
নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ে বিএনপি মন্ত্রিসভা গঠিত হবে

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মন্ত্রিসভা কেমন হবে তা নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনে বিজয়ী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) বিস্তারিত কথা বলেছেন। তিনি জানান, মন্ত্রিসভা গঠন হবে নবীন ও প্রবীণ সদস্যদের সমন্বয়ে, যেখানে শুধু রাজনৈতিক যোগ্যতা নয়, দুর্নীতির ইতিহাসহীন ও জনগণের আস্থা অর্জনকারী নেতারা স্থান পাবেন।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাওয়া ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল (অব.) এম এ জি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন এবং দেশের মানুষের আস্থাশীল হিসেবে পরিচিত, তারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল প্রশাসন গঠনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশের জনগণ ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু ভোট প্রদানের মাধ্যমে গণতন্ত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সফলতা নিশ্চিত করতে সামরিক বাহিনীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যা দেশকে দুর্বারভাবে বিপথে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে। তিনি দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন যে, যে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা হলে তা জনগণ এবং ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিহত করবে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ নাহিদ ইসলাম ও শফিকুর রহমানের বাসায় গিয়ে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ করার বিষয়ে জানান, এটি রাজনীতির অঙ্গনে নতুন সুবাতাস সৃষ্টি করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দলের ভূমিকাও শক্তিশালী হবে এবং দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বারবার বিকৃত করা হয়েছে এবং তা সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছানো হয়নি। রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের গুণগানের দিকে মনোযোগ দিতে গিয়ে দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উপেক্ষা করেছেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ মনে করিয়ে দেন, স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও দেশের মুক্তির পথে অবদান রাখার ক্ষেত্রে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটালিয়নের ৭১ সালের মার্চে বিদ্রোহ একটি निर्णায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, নবীন ও প্রবীণ নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা হবে কেবল রাজনৈতিক যোগ্যতা এবং দক্ষতার ভিত্তিতে, যেখানে দেশের জনগণের আস্থা, দুর্নীতি রোধ এবং সমাজের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি থাকবে। এটি হবে একটি মন্ত্রিসভা, যা শুধু সরকারের কাঠামো নয়, বরং জনগণের জন্য দায়বদ্ধ প্রশাসনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী দিনে মন্ত্রিসভার কার্যক্রম পরিকল্পিত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে। দেশের উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও অর্থনীতির দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করা এই মন্ত্রিসভার মূল লক্ষ্য হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে নবীনদের সৃজনশীলতা ও প্রবীণদের অভিজ্ঞতার সঠিক সমন্বয় দেশের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে এবং মন্ত্রিসভার কাঠামো নির্ধারণে সকল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ ও সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। তিনি রাজনৈতিক সংহতি, জনগণের কল্যাণ এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

উল্লেখযোগ্য, মন্ত্রিসভার গঠন প্রক্রিয়ায় প্রধান দিকনির্দেশনা হবে দেশের মানুষের আস্থা অর্জন, নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যারা দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন, তাদেরই মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে। এটি হবে একটি সমন্বিত, সক্ষম ও দায়িত্বশীল মন্ত্রিসভা যা দেশের গণতান্ত্রিক ও সামাজিক অগ্রগতিকে নিশ্চিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত