নতুন মন্ত্রীদের জন্য ৩৭ বাসা প্রস্তুত, প্রধানমন্ত্রীর ঠিকানা অজানা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার
নতুন মন্ত্রীদের জন্য ৩৭ বাসা প্রস্তুত, প্রধানমন্ত্রীর ঠিকানা অজানা

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য ৩৭টি সরকারি বাসা প্রস্তুত রয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী কোন বাসভবনে থাকবেন, তা এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ হয়নি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ অনুযায়ী বাসভবনের ব্যবস্থা করা হবে এবং বিষয়টি বিএনপির সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করা হবে।

উপদেষ্টা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যেমন মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমণ্ডি ও গুলশানে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য এই বাসাগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও কিছু বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। শপথ গ্রহণের দিন these বাড়িগুলো ব্যবহার করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, এখন কিছু বাসায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা অবস্থান করছেন। তারা সরে গেলে নতুন মন্ত্রীরা সেসব বাসা গ্রহণ করতে পারবেন।

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাসভবন নির্বাচন প্রসঙ্গে আদিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানের নাম চিহ্নিত করেছিল। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা, শেরেবাংলানগরের সংসদ ভবন এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন, এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকার একটি স্থান সম্ভাব্যভাবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তাই এখনও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের স্থান সুনিশ্চিত হয়নি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সরকারি যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই অনুষ্ঠানের জন্য সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গাড়ি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আদিলুর রহমান সরকারের গতিশীলতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল এবং ১৮ মাস জনগণের স্বার্থে কাজ করার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, “গত সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে দেশকে একটি নতুন গতিতে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। নিজেদের কাজের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সময় নবীন ও প্রবীণ সদস্যদের সমন্বয় করে একটি কার্যকরী মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, দুর্নীতির ইতিহাস নেই এবং জনগণের আস্থাশীল তাদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মন্ত্রিসভা গঠনে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পছন্দ ও দলের অভিজ্ঞতার মধ্যে সঠিক সমন্বয় দেশের প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করবে।

এছাড়া, রাজধানীতে মন্ত্রীদের নতুন বাসা ব্যবহারের প্রস্তুতি প্রশাসনকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হলেও, সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে শপথ অনুষ্ঠানের দিন সকল বাসা মন্ত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার উপযোগী হবে। নতুন মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় দায়িত্ব গ্রহণ করে সরকারি কার্যক্রমের দায়িত্ব নেবেন।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রাক্কালে প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে মিলিত হয়ে শপথ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় জনসাধারণ ও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বিদ্যমান।

নির্বাচনের প্রেক্ষাপট, মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিষয়ে চলমান আলোচনার কারণে আগামী কয়েকদিন দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো সরাসরি জনসাধারণের নজরে থাকবে। মন্ত্রিসভা কার্যক্রম শুরু করলে সরকারের কার্যক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং জনসাধারণের কাছে সরকারি সেবা প্রদানের মান বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত